ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ, ইনোভেশন, ইনকিউবেশন অ্যান্ড কমার্শিয়ালাইজেশনের (আইরিক) অধীনে পরিচালিত ইনোভেশন হাব বাংলাদেশের গবেষণা, উদ্ভাবন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল, অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটির ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ ইনোভেশন হাবটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে অতিথিরা হাবের উদ্ভাবনী গবেষণা পরিবেশের প্রশংসা করেন। নিউরোমার্কেটিং, স্মার্ট এআই রিসেপশনিস্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ‘সুস্বাস্থ্য’ প্লাটফর্মের মতো প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান নিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এসব উদ্যোগ বাংলাদেশের উদ্ভাবনী অগ্রগতির প্রতিফলন বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তারা ।
‘আ জার্নি ফ্রম আইডিয়া টু কমার্শিয়ালাইজেশন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে কাজ করছে আইরিক। এটি বাংলাদেশের প্রথম কোনো গবেষণা ইনস্টিটিউট, যেটি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার বাণিজ্যিকীকরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ ইনস্টিটিউটের অধীনে রয়েছে অ্যাডভান্স ইন্টেলিজেন্ট মাল্টিডিসিপ্লিনারি ল্যাব (এআইএমএস), ব্রেইন কম্পিউটার ইন্টারফেস রিসার্চ ল্যাব, সেন্টার ফর ডিজিটাল হেলথ ইনোভেশন অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ, ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড একাডেমিয়া কোলাবরেশন সেন্টার ফর ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন এবং ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন হাব বা ‘স্মার্ট ইউনিবেটর’।
আইরিকের অধীনে পরিচালিত একটি গবেষণাগার হলো অ্যাডভান্সড ইন্টেলিজেন্ট মাল্টিডিসিপ্লিনারি ল্যাব (এআইএমএস)। এ গবেষণাগারের সিএমইডি হেলথ নামে একটি প্রকল্প বাণিজ্যিকীকরণ করা হয়েছে। যেটি প্রতি মাসে ২০ লাখ মানুষকে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে যাচ্ছে। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ অবদান রাখায় জাতীয় পর্যায়ে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২২’ পেয়েছেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. খন্দকার আবদুল্লাহ আল মামুন।
শুধু এখানকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাই নয়, যেকোনো ব্যক্তি চাইলেই এখানকার সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে নিজেদের আইডিয়া ডেভেলপ করে দ্রুত প্রোটোটাইপ তৈরি করতে পারবে। তহবিল প্রদানের পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সমন্বয় করে বাণিজ্যিকীকরণের সব সহায়তাই পাওয়া যায় এখানে।
ইনোভেশন হাবটি পরিদর্শনকালে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বলেন, ‘এখানে যা ঘটছে তা সত্যিই রোমাঞ্চকর। বাংলাদেশের উদ্ভাবনের জন্য একটি দুর্দান্ত ভবিষ্যৎ রয়েছে, তবে সেখানে পৌঁছতে আরো অনেক বিনিয়োগের প্রয়োজন। আমি যা দেখছি, তা আমাকে সত্যিই উচ্ছ্বসিত করছে। এখানে চলমান রিসার্চ প্রজেক্টগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য মাইলফলক হতে পারে।’
ইনোভেশন হাবের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা এবং শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তায় রূপান্তরের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে যুক্তরাজ্যের অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটির ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর ড. ওসামা খান বলেন, ‘এ প্রতিষ্ঠান এমআইটি ও হার্ভার্ডের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের জন্য এমন ইকোসিস্টেম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবদুল লতিফ মোল্লার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল বন্যা পূর্বাভাস ও নদীভাঙনের মতো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা এআই ও আইওটি প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরে আইরিকের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন, যা বাংলাদেশের পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।










