ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাওয়া মানে একটি পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়ার মতো। একজন ইন্টার্ন হিসেবে কাজ শুরু করে আপনি একজন পূর্ণকালীন কর্মচারী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। কাজের ধরন স্বল্পমেয়াদি হওয়ার কারণে একজন ইন্টার্নি হওয়া প্রথমে কিছুটা কঠিন হতে পারে। লেখাটি সেই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা এবং একজন ইন্টার্নির জন্য দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে তাদের নতুন কাজের পরিবেশে অভ্যস্ত হওয়া সহজ করে তুলবে।
কোনো প্রতিষ্ঠানে একবার আপনি একটি ইন্টার্নশিপ নিশ্চিত করে ফেললে নতুন কাজের জন্য প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। তাই ইন্টার্নশিপ থেকে আপনি কী শিখতে চান বা কী অর্জন করতে চান তা আগে থেকেই চিন্তা করুন। এটি আপনাকে সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে সহায়তা করবে। আপনার প্রথম দিনের কাজের আগে অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে, যা আপনাকে এগিয়ে রাখবে অন্যদের থেকে।
অফার লেটার এবং পদের বিবরণ পর্যালোচনা করুন। আপনার ইন্টার্নশিপ অভিজ্ঞতা থেকে আপনি কী পেতে চান তা একটু চিন্তা করুন। আপনার অভিজ্ঞতার জন্য শেখার উদ্দেশ্য বিবেচনা করুন। আপনার তত্ত্বাবধায়কের সঙ্গে একযোগে আপনার ইন্টার্নশিপে আসার পর একটি শেখার পরিকল্পনা শেষ করুন। সেরা পাঁচটি প্রতিভা থিম খুঁজে বের করুন। ইন্টার্নশিপ পদের সঙ্গে আপনার প্রতিভার সমন্বয় করে ক্যারিয়ার এবং পেশাদারত্ব বিকাশের চেষ্টা করুন। ক্যারিয়ারের প্রস্তুতির জন্য আপনি কীভাবে পেশাদার দক্ষতা বিকাশ করবেন সে সম্পর্কে ভাবুন এবং এ দক্ষতাকে আপনার শেখার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারেন।
আপনার সুপারভাইজারকে কাজের প্রথম দিনের জন্য একটি এজেন্ডা এবং পৌঁছানোর পর কোথায় রিপোর্ট করা উচিত সে সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দিতে বলুন। অফিস ড্রেস কোড সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করুন। কাজের সময় জেনে নিন। লাঞ্চ আওয়ার বা অন্যান্য বিরতি সম্পর্কেও জানতে চাইতে পারেন। একাডেমিক যোগ্যতার প্রমাণ, নাগরিকত্ব যাচাই বা অন্য কোনো শনাক্তকরণের জন্য পাসপোর্ট আনতে হবে কিনা তা জেনে নিন। সাংগঠনিক কাজের পরিধিসহ অনলাইনে সংস্থাটি পর্যালোচনা করুন। আপনি যাদের সঙ্গে কাজ করবেন তাদের সঙ্গে নিজেকে পরিচিত করুন। সংস্থার সঙ্গে অন্য ইন্টার্নিরা কাজ করছেন কিনা এবং তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।
ইন্টার্নশিপের প্রথম কয়েকদিন প্রত্যাশা করবেন— সংগঠন, প্রতিষ্ঠান, অপারেশন এবং আপনি যে দলের সঙ্গে কাজ করবেন তাদের সঙ্গে একটি পরিচিতি পর্ব; অফিস বিল্ডিং এবং আপনার কর্মক্ষেত্রে একটি ঝটিকা সফর। সুপারভাইজারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে আপনার সুপারভাইজারের সঙ্গে দেখা করুন। আপনার সুপারভাইজার ব্যক্তিগতভাবে বা ভার্চুয়ালি যোগাযোগ করতে পছন্দ করেন কিনা তা জেনে নিন। আপনার সুপারভাইজারের সঙ্গে নিয়মিত মিটিংয়ের জন্য একটি সময়সূচি পরিকল্পনা করুন। অফিসের নীতি এবং পদ্ধতির পর্যালোচনা, সেই সঙ্গে আপনার কাজের সময়সূচি ও ঘণ্টা জেনে নিন। ছুটি নেয়ার নিয়মাবলি কিংবা অসুস্থ হলে কী করবেন সেটাও জেনে নেবেন। আপনার কাজ সফলভাবে সম্পাদন করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করুন। নির্দিষ্ট কাজের অ্যাসাইনমেন্ট নির্ধারণ করতে আপনার সুপারভাইজারের সঙ্গে দেখা করুন।










