অধ্যাপক ড. আসিফ-উজ-জামান। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের প্রধান। সম্প্রতি ইউআরপি বিভাগের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শফিকুল ইসলাম
দেশে ডিসিপ্লিন হিসেবে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগের শুরুটা কীভাবে হলো?
বুয়েটে স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের অধীনে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা (ইউআরপি) বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকরা এ বিষয়ে পাঠদান করতেন। পরবর্তী সময়ে যখন দেশের বাইরে থেকে প্রশিক্ষিত শিক্ষক ও গ্র্যাজুয়েটরা এ বিষয়ে ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে আসেন তখন পরিপূর্ণ বিভাগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। বুয়েটে ১৯৬৮ সালে আরবান অ্যান্ড রিজিওনাল প্ল্যানিংয়ে প্রথম মাস্টার্স প্রোগাম চালু হয়। আমরাই দেশে প্রথম প্ল্যানিং ডিসিপ্লিনে ডিগ্রি অফার করি। পরবর্তী সময়ে ১৯৯১ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় আরবান রুরাল প্ল্যানিং ডিসিপ্লিন নামে স্নাতক পর্যায়ে প্রথম প্রোপ্রাম চালু করে। বুয়েটে ১৯৯৬ সালে স্নাতক ও পিএইচডি চালু হয়।
একজন শিক্ষার্থী পড়ার বিষয় হিসেবে কেন নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বেছে নেবে?
মানুষ কোনো একটি জায়গায় বসবাস করবে, বিভিন্ন প্রয়োজনে তাকে নানা জায়গায় যেতে হবে, সঙ্গে অনেক ধরনের সেবার প্রয়োজন হবে। পৃথিবীতে মানুষ যতদিন থাকবে তাদের সমস্যা থাকবে। যেমন চিকিৎসকের চাহিদা ও প্রয়োজন সব সময়ই রয়েছে, ঠিক তেমনি ইউআরপির চাহিদা রয়েছে, ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। আমি যদি প্ল্যানের মাধ্যমে কাউকে সুস্থ রাখতে পারি তাহলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া কমে যাবে। যেমন মোটা হওয়া রোধ করতে নিয়মিত শারীরিক ব্যায়ামের প্রয়োজন। সবার পক্ষে জিমনেসিয়ামে যাওয়া সম্ভব না, সময়ও হবে না। আমি যদি যাতায়াত ব্যবস্থা অ্যাক্টিভ ট্রান্সপোর্টেশন সিস্টেম করতে পারি যেখানে দুই-তিন কিলোমিটার হাঁটা কিংবা সাইক্লিং করতে হবে, তাহলে ব্যায়ামের কাজটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হচ্ছে। সুস্থ থাকার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। এভাবে একজন প্ল্যানার স্বাস্থ্যেও অবদান রাখতে পারছে। অনেক সেক্টরেই কাজের সুযোগ রয়েছে। মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখতে ইউআরপি গুরুত্বপূর্ণ একটি সাবজেক্ট।
একাডেমিকভাবে নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বলতে আসলে কী বোঝায়?
নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনার প্রধানই হলো মানুষের জন্য প্ল্যান করা। যেকোনো জায়গায় বসবাসের জন্য মানুষের অনেক কিছুর প্রয়োজন রয়েছে। সেগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করা, সমস্যাগুলোর সমাধান, মান উন্নয়ন করাই একজন পরিকল্পনাবিদের কাজ। মানুষ যেখানেই যাক তার দরকার বাসস্থান। আমরা সেটি নিয়ে কাজ করি। যাতায়াত, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজসহ যত অবকাঠামো আছে সব নিয়েই কাজ করছি। মানুষের জীবনযাত্রার মান যাতে উন্নত করা যায় তার জন্য যা যা করা দরকার আমরা সেটি করছি। এসব করতে গিয়ে আবার পরিবেশেরও ক্ষতি হয়। তাই সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট আমাদের জন্য একটি বড় এজেন্ডা। জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের যেন ক্ষতি না হয় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হচ্ছে। ইউআরপি একটি মাল্টিডিসিপ্লিনারি সাবজেক্ট। যাতায়াত, হাউজিং, স্থাপত্য, অর্থনীতি, পরিসংখ্যান, জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, সার্ভেয়িং সবই অন্তর্ভুক্ত।
বুয়েটে ইউআরপি বিভাগের মাস্টার্স প্রোগাম অনেক জনপ্রিয়। সব ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরাই কি এখানে ভর্তি হতে পারবে?
পৃথিবীর অনেক দেশই আছে যেখানে সব ডিসিপ্লিনের স্টুডেন্টদের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনায় মাস্টার্স প্রোগাম করার সুয়োগ রয়েছে। তবে বুয়েটে নির্দিষ্ট কিছু সাবজেক্টের বাইরে স্টুডেন্ট ভর্তি করানো হয় না। এর মধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিংরের যেকোনো বিভাগের শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে। অর্থনীতি, জিওগ্রাফি, ফিজিকস, গণিত, সমাজবিজ্ঞান, সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার—এসব বিষয়ে যদি কারো স্নাতক ডিগ্রি থাকে তারা এমইউআরপি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। আবেদন করার পর কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে যদি সে যোগ্য হয় তাহলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সেখানে সাবজেক্টিভ প্রশ্ন খুব কম থাকে। প্ল্যানিং সেন্স আছে কিনা এ বিষয়টি মূল্যায়ন করা হয় পরীক্ষায়। সেরা ফলাফলধারীদের ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়।










