প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল এবং প্লাস্টিক পাদুকার উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতি। ভ্যাট প্রত্যাহার না করলে কারখানা বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।

শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির সহ-সভাপতি আশরাফ উদ্দিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘‌প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করার প্রস্তাব অযৌক্তিক। এটি কার্যকর হলে এ সাশ্রয়ী পণ্য সাধারণ জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। বিশেষ করে শ্রমজীবী, দিনমজুর, কৃষক, রিকশা-ভ্যানচালক এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাপনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। ভ্যাট অব্যাহতির ফলে সরাসরি পণ্যের উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্যহারে কমে গিয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বিবেচনায় এত উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও ১৫০ টাকা মূল্যের রাবার ও প্লাস্টিকের চপ্পল সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে সরকার। এতদিন কম উৎপাদন খরচের সুবিধা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে পৌঁছেছিল, যার মাধ্যমে দেশের নিম্ন আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী দামে প্রয়োজনীয় হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকা ক্রয় করতে পেরেছেন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য এ পণ্যগুলো অত্যাবশ্যকীয়, কারণ এগুলো ছিল তাদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘‌এ পণ্যের মূল কাঁচামাল হচ্ছে পরিত্যক্ত রাবার ও প্লাস্টিকের চপ্পল জাতীয় অপচনশীল দ্রব্যাদি, যা সংগ্রহ করা হয় দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছিন্নমূল, টোকাই ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে। সংগৃহীত এসব অপচনশীল পরিত্যক্ত প্লাস্টিক ও রাবারের চপ্পল রি-সাইকেলিং করে পুনরায় উৎপাদন করা হয়। যা পরিবেশের ভারসাম্য তথা জমির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং জলাবদ্ধতা রোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। ভ্যাট অব্যাহতির ফলে তারা রিসাইক্লিং কার্যক্রম আরো সম্প্রসারিত করতে পেরেছিল। ফলে একদিকে যেমন উৎপাদন খরচ কমেছে, অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ হ্রাস পেয়েছে। এ বিবেচনায় ভ্যাট আইনের শুরু থেকেই আমাদের উৎপাদিত প্লাস্টিক ও রাবারের পাদুকা ভ্যাট অব্যহতির সুযোগ দিয়ে আসা হয়। এই শিল্প দীর্ঘদিন ধরে ভ্যাট অব্যাহতির আওতায় রয়েছে, যা পণ্য উৎপাদনের খরচ কমিয়ে গরিব জনগোষ্ঠীর জন্য সাশ্রয়ী দামে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেছে। কিন্তু ভ্যাট আরোপ করা হলে পণ্য উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে ও বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।’

এ অবস্থায় মালিক সমিতি মনে করছে, দেশে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ভোক্তার কাছ থেকে কোনোভাবেই ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করা সম্ভব নয়। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে এমনিতে ব্যবসা ৩০-৪০ শতাংশ কমে গিয়েছে। এই অবস্থায় ভ্যাট বাড়লে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। এ ছাড়া ভ্যাট বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদন খরচ, শিল্প ধ্বংস, ক্রেতার ক্ষতি ও পরিবেশের উপর নেতাবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

তাদের দাবি অনতিবিলম্বে এ শিল্পের উপর ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট এবং চূড়ান্ত কারখানা বন্ধের কর্মসূচিতে যাবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস (রানা), সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল করিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান রহমান (সাজু), সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমানসহ অন্যান্য নেতা এবং বিভিন্ন পাদুকা প্রতিষ্ঠানের মালিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।