রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি- বার্ক) কমপ্লেক্সে স্মার্ট ভিলেজ প্রকল্পের আওতায় ‘রেজাল্ট শেয়ারিং ওয়ার্কশপ অন দ্য স্টাডি অ্যাসেসিং দ্যা নিউট্রিভ ভ্যালু অব দ্য আনকাল্টিভেটেড ফুড ইন দ্য সিএইচটি অ্যান্ড হোয়ার রিজিওন’ আন্ডার নিউট্রিশন স্মার্ট ভিলেজ প্রজেক্ট ইন বাংলাদেশ বিষয়ে গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন শীর্ষক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বার্কের মেম্বার ডিরেক্টর ড. বকতিয়ার হোসেন।
কর্মশালায় বলা হয়, প্রত্যেক মৌসুমে আমাদের দেশে বিশেষ করে পার্বত্য চট্রগ্রামের বিস্তৃত পাহাড়ী অঞ্চল এবং হাওড় এলাকার পতিত জমি, পুকুর পাড় জমির আইলে নানা ধরনের অচাষকৃত শাক ও উদ্ভিদ পাওয়া যায়। যা সার বা পানি দিয়ে যত্নে পালন হয় না, ফলে প্রাকৃতিক নির্বাচন ছাড়া অনেকটাই অবিকৃত থেকে গেছে এদের অবয়ব, স্বাদ ও গন্ধ। বহু শাক, সবজি ও উদ্ভিদ রয়েছে যাদের আবাদ করা হয় না কিন্তু এসব লতা-পাতাকে শাক হিসেবে খাওয়া হয়, যা স্বাদে-গন্ধে এরা একটা অন্যটা থেকে অনন্য। অচাষকৃত এসব শাকপাতা, লতা গুল্ম, ঔষধি উদ্ভিদ বৈচিত্র্যই পাবর্ত্য ও সমতল জনপদের মানুষের পুষ্টির অন্যতম উৎস। এসব শাক ও গুল্ম পুষ্টি ও ভিটামিনে ভরপুর।
গবেষনায় আরো বলা হয়, গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের অপুষ্টি দূরীকরণে যুগ যুগ ধরেই ভূমিকা রাখছে বাহারি রকমের অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্য। বাংলাদেশের খাল-বিল, নদী-নালা, পতিত জমি, বাড়ির আশপাশেই রয়েছে এসব উদ্ভিদ বৈচিত্র্যগুলো। যে উদ্ভিদগুলো মানুষের নিরাপদ খাদ্য ও পুষ্টির আধার হিসেবে ব্যবহার হয়। এসব ফসল থেকে স্থানীয় জনগণ তাদের পুষ্টির প্রতিদিনের চাহিদা পূরণ করতে পারে। এসব অচাষকৃত উদ্ভিদ স্থানীয় মানুষ কীভাবে ব্যবহার করছে এবং সংরক্ষণে তারা কী ধরনের ভূমিকা রাখছে সে বিষয়ে জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা তৈরি এবং উদ্ভিদ বৈচিত্র্যগুলো চিহ্নিতকরণ, সংরক্ষণ, সম্প্রসারণ ও ব্যবহার বৃদ্ধি করতে কর্মশালায় বিভিন্ন ধরনের মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ফ্রেন্ডস ইন ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট বাংলাদেশ (এফআইভিডিবি) এবং আনন্দের মাধ্যমে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলা এবং খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত ও খাদ্য নিরাপত্তাহীন পরিবারের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা এবং সুবিধাবঞ্চিত গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর পদ্ধতিগত এবং কার্যকর স্কেলিংয়ের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র অপুষ্টি হ্রাস করার লক্ষ্যে রিজিওনাল প্রোগ্রাম ফর স্কেলিং আপ দ্য মাল্টিসেক্টরাল অ্যাপ্রোচ ফর নিউট্রিশন স্মার্ট ভিলেজ ইন বাংলাদেশ, নেপাল অ্যান্ড ইন্ডিয়া ফেজ-২ প্রকল্পের কার্যক্রম ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে বাস্তবায়ন হয়ে আসছে। প্রকল্পটির আর্থিক ও কারিগরী সহযোগিতায় রয়েছে বিএমজেড এবং ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফে।
উক্ত কর্মশালায় পার্বত্য এলাকার ১২টি ও হাওড় এলাকার ৮টিসহ মোট ২০টি অপ্রচলিত বা অচাষকৃত খাদ্য-শস্যের পুষ্টি গুণাগুণসহ অপ্রচলিত বা অচাষকৃত খাদ্যগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। যেমন হাওড় অঞ্চল বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত এলাকা হওয়ায় সেখানে বিভিন্ন মৌসুমে প্রায় ৮-১০ রকমের অনাদৃত ও অচাষিত উদ্ভিদ খুবই জনপ্রিয়। এর মধ্যে বর্ষা মৌসুমে কেউরালী ও শাপলার ডগা অন্যতম। একই সঙ্গে গিমাইশাক হিসেবে খ্যাত কেউরালী ও শাপলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার পাশাপাশি আয়রণ ও আয়োডিনের অন্যতম উৎস। হাওর বা জলমগ্ন অঞ্চলে শালুক ও পানিফল একটি সুস্বাদু ও উচ্চ পুষ্টিকর খাবার। পুষ্টিবিদদের মতে, শালুক ও পানিফলের স্টার্চ খুবই মানসম্মত, যা ধীরে ধীরে ভাঙে এবং ক্ষতিকর গ্লুটেন মুক্ত।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন শের-ই-বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই-বারি) পরিচালক (গবেষণা) ড. মুন্সী রশিদ আহমেদ।
খামারবাড়ির হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক এস এম সোহরাব উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বারির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নাজিম উদ্দিন। এ ছাড়াও কর্মশালায় বেসরকারি সংস্থা ‘আনন্দ’-এর নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান মিয়া, ওয়েল্ট হাঙ্গার হিলফের হেড অব প্রজেক্ট মো. মামুনুর রশিদসহ প্রায় ৩০ জন কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন। —বিজ্ঞপ্তি









