পচা নাশপাতি আর আপেলের নিচে মাটি ঘাটাঘাটি করছিলেন বিজ্ঞানীরা। হঠাৎই তাদের চোখে পড়ে অদ্ভুত এক দৃশ্য— আঙুলে ছোঁয়া যায় না এমন ক্ষুদ্র এক প্রজাতির প্রাণী একটার গায়ে আরেকটা উঠে গঠন করছে টাওয়ার। দেখতে যেন জীবন্ত স্তম্ভ। চোখে না পড়ার মতো ছোট হলেও তাদের দলবদ্ধ কাজ দেখে থমকে যান গবেষকেরা।
জার্মানির কনস্টাঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাক্স প্ল্যাংক প্রাণীব্যবহার গবেষণা প্রতিষ্ঠানের একদল গবেষক প্রথমবারের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশে এই দৃশ্য দেখতে পান। গাছতলার পচা ফলে মিলেছে এই রহস্যময় প্রাণী। প্রজাতিতে নেমাটোড—আকারে মাত্র এক মিলিমিটার। তবে শক্তিতে দলবদ্ধ হলে নিজের চেয়ে দশগুণ উঁচু স্তম্ভ তৈরি করতে পারে।
গবেষকরা কৌতূহল নিয়ে কয়েকটি নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যান গবেষণাগারে। দেখা যায়, ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই দল বেঁধে ওরা আবারো তৈরি করছে সেই ‘জীবন্ত টাওয়ার’। ভেতরে কিছুটা শক্ত করে গাঁথা থাকে। আর বাইরের কয়েকটি প্রাণী বাহুর মতো চারপাশে ছড়িয়ে পরিবেশ বুঝে দিক ঠিক করে। মাঝে মাঝে কোনো স্পর্শ বা আলোড়নে পুরো দল সেদিকে এগিয়ে যায়।
যে প্রশ্ন বিজ্ঞানীদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে, তা হলো— এরা কি দলবদ্ধভাবে চলার কৌশল শিখেছে? না কি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার চেষ্টা করছে? গবেষণায় দেখা যায়, এই টাওয়ারগুলো কখনো পাত্রের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সেতুর মতো গিয়ে দাঁড়ায়। ধারণা করা হচ্ছে, আশেপাশে কোনো পোকা বা বড় প্রাণী এলেই এরা গায়ে উঠে ভেসে চলে যায় নতুন কোনো পচা ফলে—খাবারের খোঁজে। একা একা গেলে হয়তো মরেই যেত, দল বেঁধে গেলে বাঁচার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
গবেষকেরা বলছেন, এ যেন একটা সমন্বিত প্রাণীজগৎ— যেখানে প্রতিটি অংশ সচল, লক্ষ্য একটাই— বেঁচে থাকা।
প্রাণীদের এমন দলবদ্ধ বুদ্ধিমত্তা কেবল জীববিজ্ঞানের জন্য নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি বা রোবটিক্সের জন্যও এক নতুন অনুপ্রেরণা। জীবন্ত টাওয়ারের এই রহস্যের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির বহু অজানা কথা।
—সিএনএন










