রাতের আকাশে নিঃশব্দে উড়ে বেড়ানো বার্ন পেঁচা শুধু দক্ষ শিকারিই নয়। বরং এদের পেটের নিচের অংশের রহস্যময় সাদা রঙ বিজ্ঞানীদের ভাবাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই। কেন রাতের অন্ধকারে এদের রঙ এত উজ্জ্বল হয়? এতদিন ধারণা ছিল, পেঁচার এই সাদা পালক ইঁদুরকে ভয় পাইয়ে দেয়। ফলে ইঁদুর স্থির হয়ে গেলে শিকার সহজ হয়। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, আসল কারণ আরো চমকপ্রদ—এই উজ্জ্বলতাই পেঁচার ছদ্মবেশ। আর এজন্যই পেঁচা সহজে শিকার করতে পারে।

গবেষকরা দেখেছেন, পেঁচার নিচের অংশের সাদা পালক চাঁদের আলো প্রতিফলিত করে, যা একে আকাশের সঙ্গে মিশিয়ে ফেলে। ফলে নিচে থাকা ইঁদুর বা অন্যান্য শিকার সহজে বুঝতে পারে না যে কোথা থেকে বিপদ আসছে। চাঁদের আলো থাকলে পেঁচার উজ্জ্বলতা আর আকাশের আলোর মধ্যে পার্থক্য এতটাই কমে যায় যে ইঁদুরের চোখ সেটি ধরতে পারে না। আর তখনই পেঁচা একেবারে কাছে চলে আসে আর শিকার টের পাওয়ার আগেই হানা দেয়।

Capture

যুক্তরাজ্যের সাফোকের তারকাময় রাতের আকাশে বিশ্রামরত অবস্থায় একটি খামার-পেঁচা

গবেষকরা বলছেন, এ কৌশল অনেকটাই সাগরের মাছের সঙ্গে মিলে যায়। অনেক সামুদ্রিক প্রাণীর নিচের অংশ হালকা রঙের। এদের ওপর থেকে দেখলে মনে হয় যেন পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। বার্ন পেঁচাও হয়তো এই একই কৌশলে টিকে আছে।

তবে সব বার্ন পেঁচার নিচের অংশ সাদা হয় না। কিছু পেঁচা লালচে-বাদামি রঙেরও হয়ে থাকে। গবেষণা বলছে, তুলনামূলকভাবে সাদা পেঁচার শিকার ধরার দক্ষতা বেশি।

পুরনো ও নতুন গবেষণা একসঙ্গে মেলালে বোঝা যায়, পেঁচার সাদা পালক হয়তো দূর থেকে ক্যামোফ্লাজ হিসেবে কাজ করে। আর কাছে এলে শিকারও এই রঙ দ্বারা আকৃষ্ট হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, রাতের পরিবেশে শিকারি প্রাণীদের ছদ্মবেশ ধারণের বিষয়টি এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি। ভবিষ্যতে আরো গবেষণা হলে হয়তো এই রহস্য গভীরভাবে বোঝা যাবে।

—সিএনএন