হলিউড কিংবদন্তি মেরিলিন মনরো। তার জন্মশত বর্ষ ঘিরে বিশ্বের নানা প্রান্তে স্মরণ করা হচ্ছে বিভিন্ন আয়োজনে। এসময় জীবনের শেষ ফটোশুটের ছবিগুলো প্রকাশ করেছে এক ভিন্ন মেরিলিনকে—যেখানে নেই ট্র্যাজেডির ছায়া, বরং রয়েছে আনন্দ, স্বতঃস্ফূর্ততা এবং জীবনের প্রতি এক উজ্জ্বল ভালোবাসা। তার নির্মল হাসির আভা ছড়িয়ে পড়েছিল সমুদ্র সৈকতে।

১৯৬২ সালের জুলাই। ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা মনিকা সমুদ্র সৈকতে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন মেরিলিন। সমুদ্রের হাওয়ায় এলোমেলো চুল, সবুজ তোয়ালে বা আরামদায়ক পোশাক— সব বেশেই তিনি ছিলেন প্রাণবন্ত ও হাস্যোজ্জ্বল। শেষ ছবিতে বালুর ওপর শুয়ে ক্যামেরার দিকে ভালোবাসার চুম্বন ছুড়ে দিতে দেখা যায় তাকে।

খ্যাতনামা আলোকচিত্রী জর্জ ব্যারিশের তোলা ছবিগুলোই ছিল মেরিলিন মনরোর জীবদ্দশার শেষ প্রতিকৃতি। এর কয়েক সপ্তাহ পর ১৯৬২ সালের ৫ আগস্ট ভোরে, লস অ্যাঞ্জেলেসের বাসভবন থেকে অভিনেত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

হলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম প্রতীক মেরিলিন মনরো। কিন্তু তিনি শুধু একজন অভিনেত্রীই ছিলেন না; তার ব্যক্তিত্বে ছিল খ্যাতির ঝলমলে আড়ালে থাকা গভীরতা ও বিষণ্নতার এক রহস্যময় মিশ্রণ।

বর্তমানে ন্যাশনাল পোর্ট্রেইট গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত এক প্রদর্শনীতে মেরিলিনের জীবন ও তার বিভিন্ন আলোকচিত্রীর সঙ্গে কাজের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। প্রদর্শনীটির সহ-পরিচালক রোজি ব্রোডলে ও জর্জিয়া এতিয়েঞ্জা জানান, তাদের লক্ষ্য ছিল মেরিলিনকে নতুনভাবে বোঝার চেষ্টা করা।

১৯৬২ সালে মেরিলিন ছিলেন বিশ্বখ্যাত তারকা, কিন্তু ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নানা সংকটের মুখোমুখি। নাট্যকার আর্থার মিলারের সঙ্গে তার তৃতীয় বিবাহ ভেঙে যায়। স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে শারীরিক গঠন নিয়ে সমালোচনা চলতে থাকে। দীর্ঘদিনের অনিদ্রা ও ঔষধের ওপর নির্ভরশীলতাও তাকে ভুগিয়েছিল।

merilyn_monore1

ছবি: জর্জ ব্যারিশ এস্টেট

ওই বছরের জুনে অসুস্থতার কারণে বারবার শিডিউল ঠিক রাখতে না পারায় তাকে একটি চলচ্চিত্র থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণেরও মামলা হয়। এ পরিস্থিতিতে ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে মেরিলিন একাধিক সাক্ষাৎকার ও ফটোশুটে অংশ নেন।

প্রদর্শনীর কিউরেটরদের মতে, সান্তা মনিকার ছবিগুলোয় মেরিলিনকে অস্বাভাবিকভাবে স্বতঃস্ফূর্ত ও নির্ভার দেখা যায়। তিনি সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে দৌড়াচ্ছেন, হাসছেন, যেন জীবনের সব চাপ সাময়িকভাবে ভুলে গেছেন।

জর্জ ব্যারিশেরর মেয়ে ক্যারোলাইন ব্যারিশ প্রদর্শনীর জন্য সেই ফটোশুটের অনেক অপ্রকাশিত ছবি সরবরাহ করেন। মেরিলিনের মৃত্যুর পর কোনো ম্যাগাজিনে ছবিগুলো প্রকাশিত হয়নি।

জর্জ ব্যারিশ বিশ্বাস করতেন, এসব ছবিতে মেরিলিনের যৌন আবেদন নয়, বরং তার প্রাণবন্ত ও মানবিক দিকটি ধরা পড়েছে।

মেরিলিন মনরোর একটি বিশেষ অভ্যাস ছিল—নিজের ছবি নিজেই বেছে নেওয়া। যেসব ছবি তার পছন্দ হতো না, সেগুলোর ওপর তিনি চুলের ক্লিপ দিয়ে দাগ টেনে দিতেন, আর যেগুলো ভালো লাগত সেগুলোর পাশে ‘গুড; লিখে রাখতেন।

ব্যারিসের ভাষায়, মেরিলিন একবার তাকে বলেছিলেন, ‘এটাই আমি—এটাই আসল আমি।’

মেরিলিন মনরোর মৃত্যুর বহু দশক পরও সান্তা মনিকার সেই ছবিগুলো একদিকে যেমন গভীর বেদনার স্মারক, অন্যদিকে তেমনি জীবনের প্রতি এক উজ্জ্বল, চিরন্তন ভালোবাসার প্রতীক হয়ে আছে।