মানুষের মতোই বানর প্রজাতির প্রাণীরা একে অপরকে খোঁচা দিয়ে উত্যক্ত করে বা মজা করে। সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, ওরাওটাং, শিম্পাঞ্জি, বনোবো ও গরিলারা খেলাচ্ছলে খোঁচানোর আচরণ দেখায়, যা অনেকটাই মানুষের রসিকতার মতো।
গবেষকরা বলছেন, বানরের এ ধরনের আচরণকে মানুষের হাস্যরসের পূর্বসূরি ধরা যেতে পারে। এটি প্রমাণ করে, মানুষের হাস্যবোধের উৎপত্তি অন্তত ১৩ মিলিয়ন বছর আগে হতে পারে।
গবেষকরা ধারণা করেন, যেহেতু শিশুরা আট মাস বয়স থেকেই অন্যদের খোঁচা দেয়া বা চমকে দেয়ার মতো কাজ করতে পারে। তাই প্রাণীদের মধ্যেও এমন আচরণ থাকতে পারে।
গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের দুটি চিড়িয়াখানায় এক বিশেষ প্রজাতির বানরদের স্বাভাবিক সামাজিক আচরণের ভিডিও বিশ্লেষণ করেন। তারা দেখেন, এরা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর উদ্দেশে খোঁচা দেয়া, পথ আটকানো বা হালকা ধাক্কা দেয়ার মতো আচরণ করছে। উদাহরণস্বরূপ— এক তরুণ শিম্পাঞ্জি দুই প্রবীণ শিম্পাঞ্জির একজনকে বারবার আঘাত করছিল। আর পরবর্তীতে প্রতিবারই সে প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য অপেক্ষা করছিল।
তবে ওরাংওটাংদের মধ্যে চুল টানার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে, যা সম্ভবত তাদের লম্বা লোমের কারণে হয়ে থাকতে পারে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, সাধারণ খেলাধুলার তুলনায় এই খোঁচানোর আচরণ বেশ ভিন্ন। সাধারণত বিশ্রাম, খাদ্য সংগ্রহ বা পরস্পরকে পরিষ্কার করার সময় এমনটি দেখা গেছে। মূলত মজার ছলেই এরা একে অন্যের সঙ্গে এমন আচরণ করে বলে ধারণা করা হয়।
গবেষণার প্রধান লেখক ইসাবেল লাউমার বলেন, স্পষ্টতই তারা লক্ষ্যবস্তুর প্রতিক্রিয়া দেখতে চায়। মনে হয় তারা বুঝতে চায়, কতদূর গেলে প্রতিক্রিয়া আসবে।
গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের খোঁচানোর প্রতিক্রিয়া সাধারণত রাগান্বিত বা আগ্রাসী হয় না। বরং খোঁচানোর পর তারা সতর্কভাবে লক্ষ্য করে। আবার প্রয়োজনে আচরণ পরিবর্তন করে। যেন পরিস্থিতি খারাপ না হয়। গবেষকরা বলছেন, এটি বিবর্তনের দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
বানররা মানুষের মতো সামাজিক সম্পর্ক শক্তিশালী করার জন্য এ আচরণ করে কিনা- তা আগামী গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানতে চান।
এছাড়া বিজ্ঞানীরা তোতা পাখির মতো বুদ্ধিমান প্রাণীদের মধ্যেও এমন আচরণ আছে কিনা তা বিশ্লেষণ করতে চান। তারা দেখতে চান, হাস্যরস কি কেবল মানুষ ও বানরদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, নাকি এটি পৃথকভাবেও বিবর্তিত হতে পারে!
—সিএনএন










