ঝরনার স্বচ্ছ জলে জন্ম, তারপর অজানা সমুদ্রের পথে দীর্ঘ যাত্রা—এটাই স্যালমন মাছের চিরাচরিত জীবনচক্র। হাজার বছরের পুরনো এ অভ্যাসে এবার বিঘ্ন ঘটাচ্ছে মানুষের তৈরি ওষুধ দূষণ। গবেষকেরা বলছেন, দুশ্চিন্তা কমানোর ওষুধ ‘ক্লোবাজাম’ নদীর পানিতে মেশার কারণে সেই পানিতে বেড়ে ওঠা স্যালমনের আচরণ বদলে যাচ্ছে বিপজ্জনকভাবে।
অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি সুইডেনের ডাল নদীতে এক অভাবনীয় পরীক্ষা চালান। ২০২০ ও ২০২১ সালে প্রায় ৭০০টি স্যালমন শুঁটকি মাছের শরীরে ক্লোবাজাম ও ব্যথানাশক ট্রামাডল ইমপ্লান্ট করা হয়। শব্দ নির্ভর ট্যাগের মাধ্যমে মাছগুলোর চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করা হয়। দেখা যায়, যেসব মাছ ক্লোবাজাম গ্রহণ করেছে, তারা দ্বিগুণ গতিতে সমুদ্রের দিকে পৌঁছে যাচ্ছে, বাঁধও পার হচ্ছে দ্রুত।
শুনতে আশাব্যঞ্জক লাগলেও, গবেষকেরা বলছেন, এটা বিপদের ইঙ্গিত। ক্লোবাজামযুক্ত মাছগুলো প্রাকৃতিক শত্রুভীতির প্রতিক্রিয়ায় দুর্বল হয়ে পড়ছে। তারা ঝাঁক বেঁধে না চলে ছড়িয়ে পড়ছে। এমনকি শিকারি উপস্থিত থাকলেও। এ আচরণ তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়াচ্ছে বহুগুণে।
বিশেষভাবে লক্ষ্য করে দেখা গেছে, এই ওষুধ প্রভাবিত মাছগুলো এমন সব বাঁধ অতিক্রম করছে, যেগুলো সাধারণত তাদের জন্য বিপজ্জনক এলাকা হিসেবে পরিচিত। বাঁধের জলে প্রবল স্রোত, বিদ্যুৎ উৎপাদনের যন্ত্রপাতি আর শিকারির উপস্থিতি—সব মিলিয়ে এ পথ তাদের জন্য আরো ঝুঁকিপূর্ণ।
গবেষকরা বলছেন, দ্রুত সমুদ্রযাত্রা মানেই সফল জীবনচক্র নয়। বরং স্নায়ুবিষাক্ত এই ওষুধগুলো মাছের স্বাভাবিক আচরণ ও প্রজননে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।
গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ম্যাথিয়াস ব্র্যাংকো বলেন, ওষুধে আচরণ পাল্টে গেলে, প্রজাতির টিকে থাকা নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।
নদী থেকে সমুদ্র, সেখান থেকে ফিরে আসা—এই মহাজীবনচক্রের ওপর নির্ভর করে শুধু মাছ নয়, উপকূলের বহু জীবন ও জীবিকা। স্যালমনের হারিয়ে যাওয়া মানে, প্রকৃতির আরেকটি ছন্দ হারিয়ে ফেলা।
—সিএনএন










