বিশ্বের যেসব প্রাণীরা নিশ্চিহ্ন হওয়ার পথে, তাদের তালিকায় অন্যতম ডারউইনের ব্যাঙ। তবে আশার আলো দেখিয়েছে লন্ডন চিড়িয়াখানা। চিলি থেকে ৭ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আসা এ বিরল প্রজাতির ১১টি পুরুষ ব্যাঙের গর্ভেই জন্ম নিয়েছে ৩৩টি ব্যাঙ ছানা।

প্রাণিজগতে ব্যাঙদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মা-ই ছানাদের জন্ম দেয় ও যত্ন নেয়। কিন্তু ডারউইনের ব্যাঙদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। এ প্রজাতির পুরুষ ব্যাঙ অর্থাৎ বাবারাই জন্ম থেকে শুরু করে সন্তানের যাবতীয় দায়িত্ব নেয়। ডিম ফুটে ব্যাঙের ছানা হলে বাবারা তাদের মুখ দিয়ে গিলে ফেলে। এরপর ছানারা বেড়ে ওঠে বাবার গলবিলের ভেতরে। সেখানে পূর্ণাঙ্গ ব্যাঙ হওয়ার পর বাবা ব্যাঙ মুখ দিয়ে সন্তানদের মুক্ত করে দেয়।

ডারউইনের ব্যাঙদের বাসস্থান দক্ষিণ চিলির গভীর বৃষ্টি বনাঞ্চলে। তবে প্রাণঘাতী চিত্রিড ফাঙ্গাসের সংক্রমণে তাদের সংখ্যা ভয়ংকরভাবে কমছে। তাই সংরক্ষণবিদরা এ ব্যাঙদের রক্ষার জন্য গত বছরের অক্টোবরে একটি উদ্যোগ নেয়।

ডারউইনের সুস্থ ৫২টি ব্যাঙকে চিলির তান্তাউকো পার্ক থেকে ধরে প্রথমে ছয় ঘণ্টার নৌযাত্রায় মূল ভূখণ্ডে আনা হয়। এরপর ১৫ ঘণ্টা গাড়ি ভ্রমণের পর ব্যাঙদের নেয়া হয় চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে। সেখান থেকে লন্ডন পাঠানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয় আবহাওয়া নিয়ন্ত্রিত বাক্স, যাতে ব্যাঙগুলো নিরাপদে থাকতে পারে। দীর্ঘ ১৪ ঘণ্টার ফ্লাইট শেষে তারা পৌঁছে লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে।

লন্ডন চিড়িয়াখানায় বিশেষ ব্যবস্থায় সংরক্ষণে রাখা হয় ডারউইনের ব্যাঙদের। কয়েক মাসের মধ্যেই দেখা যায়, পুরুষ ব্যাঙগুলোর পেটে বেড়ে উঠছে নতুন প্রাণ। অবশেষে সেখানে জন্ম নেয় ৩৩টি সুস্থ ব্যাঙ ছানা।

এ বিষয়ে লন্ডন চিড়িয়াখানার উভচর প্রাণী বিশেষজ্ঞ বেন ট্যাপলি বলেন, ব্যাঙ ছানাদের জন্ম একটি 'ঐতিহাসিক মুহূর্ত'। এটি প্রমাণ করে, আমরা চাইলে পৃথিবী থেকে হারিয়ে যাওয়া প্রাণীদের ফিরিয়ে আনতে পারি।

সংরক্ষণবিদদের লক্ষ্য, এ ব্যাঙদের আবার প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেয়া। তবে তার আগে লন্ডনে তাদের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি গবেষণা চলবে, কীভাবে প্রাণঘাতী ফাঙ্গাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। যদি সেটি সম্ভব হয়, তাহলে একদিন এ ব্যাঙরা আবার চিলির বনাঞ্চলে মুক্তভাবে বিচরণ করবে।

প্রকৃতি সংরক্ষণে এমন সাফল্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণেরই বাঁচার অধিকার আছে। মানুষ চাইলেই প্রকৃতিকে ফিরিয়ে দিতে পারে তার হারানো ঐশ্বর্য। ৭ হাজার মাইল পাড়ি দেয়া এই বাবা ব্যাঙরা তারই জীবন্ত প্রমাণ। —সিএনএন