পানামার নির্জন জিকারন দ্বীপে দিনের আলো ফোটে নিঃশব্দে। মানুষের পায়ের শব্দ নেই, গাছের মগডালে ভেসে বেড়ায় শুধু হাওলার বানরের ডাকে ভরপুর বাতাস। ঠিক এমন এক ভোরবেলায়, ক্যামেরা ট্র্যাপ খুলে গবেষক জো গোল্ডসবোরো হঠাৎই দেখতে পান—একটি ক্যাপুচিন বানরের পিঠে একটি ছানা।
খুবই সাধারণ দৃশ্য। কিন্তু কিছু একটা যেন ঠিকঠাক লাগছিল না।
ছানাটির গায়ের রঙ ছিল অচেনা। আরও ফুটেজ ঘেঁটে তিনি থমকে যান। এটা ক্যাপুচিনের বাচ্চা নয়—একটি হাওলার বানরের ছানা।
‘প্রথমে ভাবলাম, হয়ত কোনো পরিত্যক্ত ছানাকে কুড়িয়ে পেয়েছে’, বলেন জো। ‘কিন্তু দিন যত গড়াল, বুঝতে পারলাম—ওরা দুধ খাওয়াচ্ছে না, খেলছে না, আদর করছে না। কেবল পিঠে বয়ে বেড়াচ্ছে। যেন কল্পনাহীন একটা খেলা, যার পরিণতি অনাহারে মৃত্যু।’
১৫ মাসে অন্তত ১১টি হাওলার ছানা অপহরণ করেছে চার তরুণ পুরুষ ক্যাপুচিন। প্রতিবার একই দৃশ্য—বুকভরা কৌতূহল, কিন্তু কোনো মাতৃত্ববোধ নেই।

পুরুষ ক্যাপুচিন বানরগুলো অপহৃত হাওলার ছানাগুলোর সঙ্গে তেমন একটা যোগাযোগ করে না।
জিকারন দ্বীপে কেউ বাস করে না। বিজ্ঞানীরা আসেন শুধু সময় বুঝে, নৌকা করে। সরাসরি পর্যবেক্ষণ কঠিন। তাই তাদের ভরসা ক্যামেরা। কিন্তু গাছের উঁচু ডালে যা ঘটে, তা রয়ে যায় ক্যামেরার বাইরে।
তবু প্রশ্ন উঠছে—কেন?
কেউ বলছেন, এটি সাংস্কৃতিক প্রবণতা—অর্থহীন হলেও প্রভাবশালী। কেউ বলছেন, ক্যাপুচিনরা কেবল বিরক্ত। মানুষ যেমন অবসরে পোকামাকড় ধরে সময় কাটায় বা শিশুরা ব্যাঙ ধরে খেলতে গিয়ে ভুলে যায় সে প্রাণী—এই বানরেরাও যেন তেমনি এক রৈখিক বোধহীনতার মাঝে হারিয়ে গেছে।
গবেষক করিন্না মোস্ট বলেন, মানুষ ভাবে, প্রয়োজনীয়তা থেকেই উদ্ভাবন আসে। কিন্তু কখনো কখনো অবসরও নতুন ও অদ্ভুত আচরণের জন্ম দেয়।
ব্র্যান্ডন ব্যারেট বলেন, মানুষ যেমন মজার ছলে অন্য প্রাণীর ক্ষতি করে, এও যেন তেমন এক আয়না। তারা জানে না—যা করছে, তা কারো জন্য মৃত্যুর সমান ভয়ংকর।
হাওলার বানরেরা এখন বিপন্ন। মায়েরা দুই বছরে মাত্র একটি বাচ্চা জন্ম দেয়।
গোল্ডসবোরো বলেন, ‘প্রতিবার ক্যামেরা খুলে সেই ছোট ছানার মুখ দেখলে, মনে হয়—আমরা হয়তো এমন এক আচরণের জন্মদর্শনে আছি, যার অর্থ এখনো কেউ জানে না। শুধু আশা করতে পারি, এটাও কোনো একদিন হারিয়ে যাবে মানুষের ফেলে আসা শিশুকালের মতোই।’
—সিএনএন










