আটলান্টার এক অভিজাত হোটেলের ছাদে অপ্রত্যাশিতভাবে আটকা পড়েছিল সাত সদস্যের একটি রাজহাঁস পরিবার। মা-বাবা ও তাদের পাঁচটি ছোট ছানা। ছানারা তখনো উড়তে শেখেনি। চারতলা নিচে থাকা পুকুরে নামার কোনো উপায় না থাকায় মা ও বাবা হাঁস ছানাদের নিয়ে পড়েছিল চরম বিপাকে। শেষ পর্যন্ত এক হৃদয়বান উদ্ধারকর্মীর চেষ্টায় তাদের সেই বন্দিদশা কাটে। আর রূপকথার মতো গল্পের শেষটা হয় হ্যাপি এন্ডিং দিয়ে!

ধারণা করা হচ্ছে, যেহেতু রাজহাঁসেরা উঁচু ও খোলা জায়গায় বাসা বাঁধতে পছন্দ করে। তাই আটলান্টার হোটেলের ছাদটি তাদের কাছে নিরাপদ মনে হয়েছিল। কাছেই পুকুর থাকায় জায়গাটি আরো আকর্ষণীয় ছিল। তাই মা হাঁসটি ছাদেই ডিম পেড়ে ছানা ফোটায়। কিন্তু জন্মের পরপরই ছানাগুলো উড়তে না পারায়, রাজহাঁস পরিবারটি নিচে নামার উপায় না পেয়ে ছাদেই আটকা পড়ে।

Capture

হোটেলের চারতলা ছাদের ওপর আটকা পড়া রাজহাঁসের ছানারা

অ্যাওয়্যার ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের স্বেচ্ছাসেবী মাইকেল ওয়াটার্স জানান, মা ও বাবা রাজহাঁস তাদের ছোট্ট ছানাদের রক্ষা করার জন্য খুবই সজাগ ছিল। প্রথমে ওয়াটার্স সাবধানে ছানাগুলোকে একটি বাক্সে জমা করেন। তখন বাবা হাঁসটি ভয় পেয়ে উড়ে গিয়ে হোটেলের নিচে পুকুরের ধারে অপেক্ষা করতে থাকে। এরপর মা হাঁসটিকে ধরতে গেলে সেও তার বাচ্চাদের কাছে ফিরে আসার চেষ্টা করে। এই সুযোগে ওয়াটার্স তাকে নিরাপদে আটকে ফেলেন।

Capture

মা রাজহাঁস

যখন ওয়াটার্স মা হাঁস ও তার ছানাদের নিয়ে হোটেলের পেছনের পুকুরে যান, তখন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিল বাবা রাজহাঁসটি! পরিবারের এই পুনর্মিলন দেখে ওয়াটার্সের মন ভরে ওঠে। তিনি জানান, ছানাগুলোকে দেখে মনে হয়, এরা যেন জন্ম থেকেই পানির পোকা। তারা খুব দ্রুত পানিতে নিজেদের মানিয়ে নেয়। আর আনন্দে সাঁতার কাটতে শুরু করে।

Capture

উদ্ধারের পর রাজহাঁসের ছানাগুলো পরিবারের সঙ্গে পুকুরে সাঁতার কাটছে

জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের কর্মকর্তা কারা নিস্কে জানান, কানাডিয়ান রাজহাঁস সাধারণত ছোট ঘাসের খোলা মাঠ ও কাছাকাছি পানির উৎসের এলাকাগুলো পছন্দ করে। বর্তমানে শুধু জর্জিয়াতেই প্রায় আড়াই লাখ কানাডিয়ান রাজহাঁস রয়েছে।

তিনি আরো জানান, কানাডিয়ান রাজহাঁস ফেডারেলভাবে সংরক্ষিত। মাইগ্রেটরি বার্ড ট্রিটি অ্যাক্ট ১৯১৮ এর আওতায় এদের উদ্ধার বা স্থানান্তরের জন্য সরকারি অনুমতি প্রয়োজন। এ ধরনের কোনো পরিস্থিতিতে পড়লে স্থানীয় বন্যপ্রাণী সংস্থা বা বিভাগের সহায়তা নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

উদ্ধার শেষে রাজহাঁস পরিবার যখন শান্তভাবে পানিতে সাঁতার কাটছিল, তখন চারপাশের মানুষও যেন কিছু সময়ের জন্য ভুলে গিয়েছিল ব্যস্ত শহরের কোলাহল। প্রকৃতির এই ছোট্ট ঘটনা রূপকথার গল্পের মতো সুখ স্মৃতি হয়ে থাকবে পর্যটকদের সবার মনে।

—সিএনএন