১৯৪৩ সালে ব্রিটিশদের অধীনে থাকা বাংলায় দুর্ভিক্ষে মারা যান লাখ লাখ মানুষ। এ বিপর্যয়কে মানবসৃষ্ট বলে উল্লেখ করেন অনেক ইতিহাসবিদ ও গবেষক। সেই দুর্ভিক্ষে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উইনস্টন চার্চিলের ভূমিকা নিয়ে মন্তব্যকে ঘিরে সম্প্রতি তীব্র বিতর্ক দেখা যায়। এর ফলশ্রুতিতে টার্নার পুরস্কারজয়ী শিল্পী হেলেন ক্যামকের একটি ভিডিও ইনস্টলেশন ‘দ্য পারসিস্টেন্স’ যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারি (এনপিজি) থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দ্য পারসিসটেন্স শিল্পকর্মটি গতকাল গ্যালারি থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা চলছিল।
৪০ মিনিটের ওই ভিডিওতে ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ করতে গিয়ে ক্যামক বলেছিলেন, অলিভার ক্রমওয়েলের আয়ারল্যান্ড অভিযান ও ১৯৪৩ সালের বাংলার দুর্ভিক্ষের মধ্যে মিল রয়েছে। ক্রমওয়েল যেমন গণহারে মানুষকে অনাহারে রেখেছিলেন, তেমনি উইনস্টন চার্চিলের নীতির কারণেও ভারতে ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহার তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।
এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। চার্চিলের নাতি স্যার নিকোলাস সোমসসহ ৫০ জনের বেশি অভিজাত ব্যক্তি একটি চিঠিতে গ্যালারির বোর্ডকে কাজটি সরানোর আহ্বান জানান। গ্যালারি কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠিটি পাঠিয়েছেন ইতিহাসবিদ অ্যান্ড্রু রবার্টস, যিনি শিল্পকর্মটিকে আদর্শগতভাবে প্রভাবিত বক্তব্য বলে সমালোচনা করেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফও শিল্পকর্মটির সমালোচনা করে বলে, চার্চিলকে দুর্ভিক্ষের জন্য দায়ী করা ভুল ব্যাখ্যা। তাদের মতে, ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ মূলত প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধকালীন সরবরাহ সংকট এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে হয়েছিল।

হেলেন ক্যামক
অন্যদিকে, কিছু ইতিহাসবিদ দাবি করেন, চার্চিল ভারত থেকে খাদ্য সরবরাহ সংক্রান্ত সতর্কতা উপেক্ষা করেছিলেন এবং যুদ্ধকালীন সময়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্য অংশে খাদ্য সরিয়ে নেয়ার নীতি পরিস্থিতিকে আরো ভয়াবহ করে তোলে, যার ফলে লক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু ঘটে।
ন্যাশনাল পোর্ট্রেট গ্যালারি জানায়, শিল্পী নিজেই কাজটি সরানোর অনুরোধ করেন এবং তারা তার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানায়।
হেলেন ক্যামক এক বিবৃতিতে বলেন, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ রয়েছে যাতে তারা বিতর্কিত ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন না তোলে। তার মতে, শিল্পের কাজই হলো ইতিহাসকে প্রশ্ন ও নতুনভাবে ব্যাখ্যা করা।
তিনি আরো বলেন, শিল্পীর কাজ হলো সময়কে প্রতিফলিত করা, আর কখনও কখনও তা ইতিহাস পুনর্বিবেচনা ও চ্যালেঞ্জ করার মধ্য দিয়ে হয়।
উল্লেখ্য, ক্যামক ২০১৯ সালে যৌথভাবে টার্নার পুরস্কার জয় করেন।
প্রায় ১০ মাস প্রদর্শিত হওয়ার পর আগস্টে চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিতর্কের কারণে আগেই সরিয়ে নেয়া হলো।










