বাহামা দ্বীপপুঞ্জে ক্যারিবীয় জলদস্যুদের সঙ্গে সম্পর্কিত জাহাজডুবির প্রথম নিদর্শনের সন্ধান পেয়েছে এক আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক দল। দলটির সহ-নেতৃত্বে ছিলেন এক ব্রিটিশ সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্ববিদ। খবর দ্যা গার্ডিয়ান।
নাসাউ বন্দরের একটি সংরক্ষিত অঞ্চলে অভিযান চালানোর অনুমতি পাবার পর থেকে গবেষকরা ছয়টি জাহাজডুবির সন্ধান পান। এর মধ্যে তিনটি জলদস্যুতার ‘স্বর্ণযুগ’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো সত্যিকারের ‘পাইরেটস অব দ্য ক্যারিয়ানের’ প্রমাণ মিলল বলে মন্তব্য গবেষকদের।
১৬৯০ থেকে ১৭২০ সালের মধ্যে দুটি কুখ্যাত জলদস্যুদল তাদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করত অঞ্চলটি। এখান থেকেই তারা সমুদ্রপথে ডাকাতির পরিকল্পনা করত এবং লুটের সম্পদ ভাগ করে নিত।
গবেষকরা পানির নিচে একটি পোড়া কাঠের জাহাজের কাঠামো খুঁজে পান। জলদস্যুরা সাধারণত লুট করা জাহাজে আগুন ধরিয়ে দিত।
তারা আরো খুঁজে পান ঘূর্ণায়মান ছোট কামান, একটি লোহার কামান, ২৫টি সীসার মাস্কেটের গুলি এবং তলোয়ার ধার দেয়ার পাথর। গবেষকদের মতে, এগুলো জলদস্যু হামলার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
ব্রিটিশ সামুদ্রিক প্রত্নতত্ত্ববিদ সিন কিন্সলে বলেন, এটা তো কেবল আবিষ্কারের শুরু। তার মতে, নাসাউ বন্দরের পানির নিচে আরো অনেক জাহাজ থাকতে পারে।

জলদস্যুদের কল্পিত জাহাজ। ছবি: বোট ইন্টারন্যাশনাল
১৬৯৫ সালে জলদস্যু হেনরি এভেরি প্রচুর স্বর্ণ, রৌপ্য ও মূল্যবান পাথর লুট করেন— যা ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডাকাতি হিসেবে পরিচিত। গবেষকরা ধারণা, উদ্ধার হওয়া পোড়া জাহাজটি হয়তো তার প্রধান জাহাজ ‘ফেন্সি’ হতে পারে।
বাহামা দ্বীপপুঞ্জের ইতিহাস ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মাইকেল প্যাটম্যান বলেন, জাহাজ পুড়িয়ে ফেলা ছিল অপরাধ ঢাকার পরিচিত কৌশল। উদ্ধার হওয়া জাহাজে ভারী অস্ত্রশস্ত্র ছিল, বিশেষ করে ঘূর্ণায়মান কামান, যা শত্রুদের ওপর আক্রমণ চালাতে ব্যবহৃত হতো।
নাসাউ অঞ্চলে আগে কোনো জলদস্যু জাহাজডুবির প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাই এই আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে গবেষকরা মনে করছেন।
তাদের মতে, এসব নিদর্শন দেখায় যে নাসাউ একসময় জলদস্যুদের ঘাঁটি থেকে ধীরে ধীরে একটি সাধারণ বাণিজ্যিক বন্দরে রূপ নিতে শুরু করেছিল।
প্রকল্পটির সহ-পরিচালক বলেন, ‘হলিউডের সিনেমার কারণে সবাই জলদস্যুদের গল্প জানে, কিন্তু বাস্তবে তারা কীভাবে বেঁচে ছিল, তা খুব কমই জানা যায়।’
এ অনুসন্ধানে আরো অংশ নেয় আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের একটি দল, যারা ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্র পরিবেশে কাজ করেছে। সেখানে তীব্র স্রোত ও প্রচুর হাঙরের উপস্থিতি ছিল।










