সিউলের এক শান্ত গলিতে রয়েছে এক অদ্ভুত দোকান। এখানে গরম ধোঁয়া ওঠা রামেনের সঙ্গে মেলে সিনেমা দেখার আর গল্প করার সুযোগ। ২৯ বছরের হি-কিউং প্রায় প্রতিদিনই এখানে আসেন। একসময় পরিবার থেকে দূরে থাকা এই তরুণীর দিন কাটত একা। বন্ধুত্ব কেবল অনলাইনেই, চাকরি নেই, সময় যেত ফোনে বিড়াল-কুকুরের ভিডিও দেখে। কিন্তু গত মার্চে চালু হওয়া এই বিশেষ দোকান বদলে দিয়েছে তার একঘেয়ে রুটিন।
দোকানটির ভেতরের পরিবেশ যেন ছোট্ট এক ক্যাফে। আছে বিনব্যাগ, ম্যাসাজ চেয়ার, সঙ্গে ফ্রি রামেন। খাওয়ার আগে প্রত্যেক অতিথিকে নিজের মন ও জীবনযাপনের অবস্থা নিয়ে একটি ছোট জরিপে অংশ নিতে হয়। শুরু থেকেই এই উদ্যোগ মানুষের আগ্রহ কাড়ে। এই রামেনের দোকানে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার মানুষ এসেছে— যা ছিল আয়োজকদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি।
এখানে আসেন নানা বয়সের মানুষ, তরুণ থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত মোটামুটি সবাই। অনেকেই ছোট বাসায় একা থাকেন, কারো সঙ্গে নিয়মিত কথা বলার সুযোগ নেই। কেউ আসেন সিনেমা দেখতে, কেউ গরম কিংবা ঠান্ডা জায়গায় সময় কাটাতে, কেউ কেবল চুপচাপ বসে থাকতে। এমনকি যাদের অন্য কোথাও স্বাগত জানানো হয় না, তারাও এখানে স্বস্তি খুঁজে পান।
দোকান পরিচালকেরা জানান, শুরুর দিকে অনেকেই অপরিচিতদের সঙ্গে কথা বলতে বা একসঙ্গে খেতে সংকোচ বোধ করতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদল এসেছে। যেমন হি-কিউং এখানে শুধু রামেন খেতেই আসেন না, কখনো কখনো নতুন কাউকে জড়িয়ে ধরতেও এগিয়ে যান।
সিউলের এই ছোট্ট উদ্যোগ হয়তো পুরোপুরি বদলে দিতে পারবে না একাকী জীবনের বাস্তবতা, কিন্তু মানুষের মনে যে উষ্ণতার দরজা খুলে দিয়েছে তা হয়তো অনেকের জন্যই বড় প্রাপ্তি।
—বিবিসি










