একবার ভাবুন তো, প্রায় অর্ধ টন ওজনের একটি অমেরুদণ্ডী প্রাণী, যা গভীর সমুদ্রের অন্ধকারে সাবলীলভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে! স্বচ্ছ শরীর, আটটি বাহুর মাঝে কাঁটার মতো গঠন—সব মিলিয়ে যেন কোনো কল্পবিজ্ঞান সিনেমার চরিত্র। এবার সেই রহস্যময় কোলোসাল স্কুইডকেই জীবন্ত অবস্থায় প্রথমবারের মতো ক্যামেরাবন্দি করলেন বিজ্ঞানীরা।
দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের সাউথ স্যান্ডউইচ দ্বীপপুঞ্জের কাছে, প্রায় ৬০০ মিটার গভীরে দৃশ্যটি ধরা পড়ে। স্মিড্ট ওশান ইনস্টিটিউটের গবেষণা জাহাজ ফ্যালকর (টু) থেকে পাঠানো রিমোটলি অপারেটেড যান সাবাস্টিয়ানের ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক কিশোর বয়সী স্কুইড— দৈর্ঘ্যে প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার।

অ্যান্টার্কটিকার আইসবার্গে স্মিড্ট ওশান ইনস্টিটিউটের গবেষণা জাহাজ ফ্যালকর (টু)
বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন, এটি মেসোনিকোটেউথিস হ্যামিলটনি প্রজাতির। বিশ্বের সবচেয়ে ভারী অমেরুদণ্ডী প্রাণী হিসেবে পরিচিত এই স্কুইড প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ৭ মিটার পর্যন্ত লম্বা ও ৫০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের হতে পারে।
গভীর সমুদ্রের এ বাসিন্দা এতদিন পর্যন্ত মানুষের চোখে অধরাই ছিল। বিজ্ঞানীরা এতদিন এদের দেখেছেন কেবল মৃত বা আহত অবস্থায়। এদের পাওয়া যেত সেসব প্রাণীর পেটে, যারা এদের শিকার করেছে। তাই এবার প্রথমবারের মতো জীবন্ত কোলোসাল স্কুইডের দেখা মেলায় গবেষকদের মধ্যে দারুণ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
যদিও এই স্কুইডটি এখনো পুরোপুরি বড় হয়নি। তবে এর মধ্যে শৈশবের চিহ্ন আর নেই। এর স্বচ্ছ শরীরে দেখা গেছে লালচে-বাদামী রঙের বড় বড় ক্রোমাটোফোর, যা দিয়ে এটি চাইলেই রঙ বদলে স্বচ্ছ থেকে অস্বচ্ছ হয়ে উঠতে পারে। এতদিন এ ক্ষমতার কথা শুধু অনুমান করা হতো। এবার ভিডিওতে তার প্রমাণ মিলেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, চাইলেই শরীরের রঙ স্বচ্ছ থেকে অস্বচ্ছ করতে পারে বলেই এরা এতদিন মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।

অ্যান্টার্কটিকার আইসবার্গে কাঁচের মতো স্বচ্ছ জীবন্ত স্কুইড
এবার জানুয়ারিতে এই একই অভিযানে আরো একটি আশ্চর্য বিষয় দেখা গেছে। তখন অ্যান্টার্কটিকার বেলিংসহাউসেন সাগরে জীবন্ত গ্লেসিয়াল গ্লাস স্কুইডের ভিডিও ধারণ করা হয়। সে সময় এর মাথার ওপর তুলে রাখা শুঁড় দেখতে পান বিজ্ঞানীরা। তারা স্কুইডের এ অবস্থানের নাম দিয়েছেন 'ককাটু পোজ'।
স্মিড্ট ওশান ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, তারা আগামী চার বছর ধরে দক্ষিণ আটলান্টিকের আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের উপকূলে এ ধরনের অভিযান চালাবে। প্রতিটি অভিযান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ইনস্টিটিউটের ইউটিউব চ্যানেলে—যাতে শুধু গবেষক নয়, সাধারণ দর্শকরাও অংশ নিতে পারেন গভীর সমুদ্রের এই মহা-আবিষ্কারে।
—সিএনএন










