সিমেন্ট, ইট আর লোহা দিয়ে ঘরবাড়ি বানানো স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু সামনের দিনগুলোয় এ বাস্তবতা বদলে দিতে পারে একেবারে ভিন্ন উপাদান— ছত্রাক আর ব্যাকটেরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা এমন এক ধরনের জীবন্ত নির্মাণ উপাদান তৈরি করেছেন, যারা নিজের শরীর দিয়েই তৈরি করতে পারে শক্ত কঙ্কাল। এমনকি ভবিষ্যতে নিজে নিজেই সারাতে পারবে ফাটল!
এই জীবন্ত উপাদান তৈরির পেছনে কাজ করছে মাইসেলিয়াম নামের এক ধরনের ছত্রাকের শিকড়। গবেষকেরা এটিকে একটি ফ্রেমের মতো তৈরি করেছেন। এরপর সেখানে যোগ করা হয়েছে ‘স্পোরোসারসিনা প্যাস্টুরি’ নামের ব্যাকটেরিয়া। এরা ইউরিয়া ভেঙে তৈরি করে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট। এতে ছত্রাকের কোমল কাঠামো ভেঙে রূপ নেয় শক্ত হাড়ের মতো জমাট কাঠামোয়। আর এই পুরো প্রক্রিয়ার নাম বায়োমিনারালাইজেশন।
গবেষণা দলের প্রধান গবেষক চেলসি জানান, 'কাঠামোটি প্রথম শুরু করার সময় মনে হয়েছিল, এটা যেন নিজের মতো করে বেড়ে উঠছে। যেন কোনো জীবন্ত ঘর, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে গড়ে নিচ্ছে!'

অধ্যাপক চেলসি হেভারান (মাঝে) ও তার শিক্ষার্থীরা (বাম দিক থেকে ইথান ভাইলস ও লিভ অ্যাসফোলম) একসঙ্গে বায়োমিনারালাইজড উপাদান তৈরি করছেন।
এই উপাদান এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভবিষ্যতে এটি হতে পারে পরিবেশবান্ধব নির্মাণের অন্যতম বিকল্প। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চল, ভূমিকম্প বা বন্যাকবলিত এলাকা, এমনকি মহাকাশে মানববসতির পরিকল্পনায় এই উপাদান বদলে দিতে পারে নির্মাণশিল্পের ভাষা।
তবে বাস্তব ব্যবহারে এখনো অনেকটা পথ বাকি। নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির গবেষক আবিনাশ মঞ্জুলা-বাসাভান্না বলেন, 'এই উপাদান মজবুত হলেও ভার বহনের জন্য এখনো যথেষ্ট নয়। তবু ভবিষ্যতে একতলা বা সাময়িক কাঠামো তৈরিতে এটি কার্যকর হতে পারে।'
ছাত্রাবাসে থাকেন এমন শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে চেলসি বলেন, ‘ভাবুন তো! এমন ঘরে থাকছেন, যা আপনার সঙ্গে কথা বলছে। আবার আবহাওয়া বুঝে নিজ থেকেই সাড়া দিচ্ছে। এটি শুধু একটি ঘর নয়, যেন একজন সঙ্গী।’
তবে ছত্রাকের ক্ষেত্রে অ্যালার্জি বা স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে। তাই এ নিয়ে চলছে আরো গবেষণা। তবু বিজ্ঞানীদের আশা—১০ বছর পর হয়তো কেউ একটি ব্যাকপ্যাকে নিয়ে ঘর বানাতে পারবে, যেখানে ইট কিংবা সিমেন্ট লাগবে না—লাগবে শুধু একটু যত্ন আর বিজ্ঞান।
—সিএনএন










