দুধ আমাদের খাদ্যতালিকায় থাকা অন্যতম বিতর্কিত পানীয়। কারো কাছে এটি ‘সুষম খাবার’, আবার কেউ কেউ এর উৎপাদন পদ্ধতি বা স্বাস্থ্যগুণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান দুধকে ‘কমপ্লিট ফুড’ বা আদর্শ খাদ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। ১১ হাজার বছর আগে মানুষ যখন প্রথম স্তন্যপায়ী প্রাণী পোষ মানাতে শুরু করে, তখন থেকেই দুধ আমাদের জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অংশ।
হাড়ের সুরক্ষা ও দীর্ঘমেয়াদী রোগ প্রতিরোধ
দুধে থাকা ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও জিঙ্ক হাড়ের গঠন মজবুত রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। গবেষণায় দেখা গেছে, লো-ফ্যাট বা ননীমুক্ত দুধ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে দারুণ সহায়ক। দুধে থাকা ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম একত্রে উচ্চ রক্তচাপের বিরুদ্ধে কাজ করে। এমনকি কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও দুধে থাকা ভিটামিন ডি ও প্রোটিন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সুনিদ্রা ও ব্যায়াম পরবর্তী পুষ্টি
দুধে থাকা ‘ট্রিপটোফ্যান’ নামক অ্যামিনো অ্যাসিড মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নিঃসরণ বাড়ায়, যা শরীরকে শিথিল করে দ্রুত ঘুমাতে সাহায্য করে। এছাড়া অ্যাথলেটদের জন্য এটি বাজারের দামী স্পোর্টস ড্রিংকসের চেয়েও ভালো প্রাকৃতিক বিকল্প, যা ব্যায়ামের পর পেশির পুনর্গঠনে ও রি-হাইড্রেশনে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, নিয়মিত দুধ পান করলে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজন কমানো সহজ হয়। পাশাপাশি এটি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

ভুল ধারণা
অনেকে মনে করেন দুধের সঙ্গে ফল খেলে বিষক্রিয়া হয়। এটি আসলে একটি ঐতিহাসিক মিথ। ঔপনিবেশিক আমলে দাসদের ফল খাওয়া থেকে বিরত রাখতে এ ধরনের ভয় দেখানো হতো বলে দাবি করেন অনেক বিশ্লেষক। প্রকৃতপক্ষে দুধের সঙ্গে ফল দিয়ে তৈরি শেক বা স্মুদি স্বাস্থ্যের জন্য উপাদেয়। এছাড়া বাজার থেকে কেনা পাস্তুরিত বা ইউএইচটি দুধ বাড়িতে এনে পুনরায় ফোটানোর প্রয়োজন নেই। এগুলো আগে থেকেই ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ামুক্ত করা থাকে।
সতর্কতা ও বিড়ালের মিথ
দুধ পুষ্টিকর হলেও সবার জন্য এটি সমান ফলদায়ক নয়। ‘ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স’ থাকলে দুধ হজমে সমস্যা হতে পারে। এর বিকল্প হতে পারে বাদাম বা ওটস মিল্ক। আবার গ্যাস্ট্রাইটিসের রোগীদের ক্ষেত্রে দুধ সাময়িকভাবে আরাম দিলেও পরে অ্যাসিড উৎপাদন বাড়িয়ে দিতে পারে। একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হলো বিড়ালকে দুধ খাওয়ানো। প্রকৃতপক্ষে, অধিকাংশ বিড়াল ল্যাকটোজ ইনটলারেন্ট; ফলে তাদের গরুর দুধ দিলে পেটে গ্যাস বা ডায়রিয়া হতে পারে।










