ইথিওপিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলের লাল রঙের ফুলগুলোতে মধু খাওয়ার দৃশ্য বড় শিকারি নেকড়েদের নতুন পরিচয় দিয়েছে। তারা কেবল শিকারি প্রাণীই নয়, পরাগবাহক হিসেবেও ভূমিকা পালন করতে পারে। সম্প্রতি একটি গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। নেকড়েদের ফুল থেকে মধু খাওয়া ও পরাগ স্থানান্তরের এই ঘটনা বড় শিকারি প্রাণীদের আচরণে প্রথমবারের মতো নজির সৃষ্টি করেছে।
আশির দশকের কথা। জীববিজ্ঞানী ক্লডিও সিলেরো ইথিওপিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে নেকড়েদের নিয়ে কাজ করছিলেন। তখনই প্রথম তিনি লক্ষ্য করেন, এই নেকড়েরা লাল রঙের ফুল চেটে খাচ্ছে। মিষ্টি স্বাদের প্রতি নেকড়েদের এই আকর্ষণ তাকে রীতিমতো অবাক করে। তিনি বলেন, নেকড়েদের মিষ্টি খাওয়ার এই দৃশ্য যেন তাদের কাছে ডেজার্ট উপভোগের মতোই ছিল।

ফুলের মধু চেটে খেতে পছন্দ করে এই বিশেষ প্রজাতির নেকড়েগুলো
সম্প্রতি ইকোলজি পত্রিকায় প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, সিলেরো ও তার সহগবেষকরা চার দিন ধরে ছয়টি নেকড়েকে পর্যবেক্ষণ করেন। তারা লক্ষ্য করেন, নেকড়েরা ফুলের মাথা চেটে মধু খাচ্ছে। কেউ কেউ কয়েক মিনিট ধরে এই কাজ করলেও, কেউ আবার এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে মধু খাচ্ছিল।
ইথিওপিয়ার নেকড়েদের প্রধান খাদ্য ছোট ইঁদুরজাতীয় প্রাণী। তবে গবেষকরা মনে করেন, ফুলের মধু তাদের খাদ্যতালিকার অতিরিক্ত অংশ। একে ‘ডেজার্ট হাইপোথিসিস’ বলে উল্লেখ করেছেন তারা। এর মানে হলো, প্রাণীরা তাদের প্রয়োজন না হলেও বিশেষ পছন্দের কোনো কিছু উপভোগ করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নেকড়েদের নাকে প্রচুর পরাগ জমে। একবার মধু খেতে গিয়ে তারা প্রায় ৩০টি ফুলে পরাগ স্থানান্তর করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদিও এই ফুলগুলো প্রধানত পাখিদের মাধ্যমে পরাগায়িত হয়। কিন্তু নেকড়েদের এই ভূমিকা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
পাহাড়ি অঞ্চলের এই নেকড়ে বর্তমানে একটি বিপন্ন প্রজাতি। বর্তমানে মাত্র ৪৫৪টি প্রাপ্তবয়স্ক নেকড়ে জীবিত রয়েছে। বাসস্থান ধ্বংস ও কুকুরের মাধ্যমে রোগ ছড়ানোর কারণে তারা হুমকির মুখে পড়েছে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য সিলেরো প্রতিষ্ঠিত ইথিওপিয়ান উলফ কনজারভেশন প্রোগ্রাম বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে ২০০৪ সালে এই প্রজাতির অবস্থা 'অতি বিপন্ন' থেকে ‘বিপন্ন’তে উন্নীত হয়।
নেকড়েদের মধু খাওয়া ও পরাগবাহকের ভূমিকা মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন গবেষকরা। সিলেরোর মতে, এটি সংরক্ষণ নীতিমালার জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে। এই নেকড়েদের সংরক্ষণ স্থানীয় সম্প্রদায় ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদী।










