পান্ডার পরিপাকতন্ত্র মাংসাশী প্রাণীদের মতো হলেও পান্ডা মূলত বাঁশ খেয়েই বেঁচে থাকে। যদিও পান্ডা কেন বাঁশ খায়, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রশ্ন ছিল। নতুন এক গবেষণায় এর উত্তর খুঁজে পেয়েছেন চীনা বিজ্ঞানীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁশ খাওয়ার ফলে তাদের আচরণ, ঘ্রাণশক্তি ও স্বাদের অনুভূতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমের স্থানীয় প্রাণী পান্ডা। তারা দিনে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বাঁশ খেয়ে কাটায়। সম্প্রতি ফ্রন্টিয়ার্স জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, বাঁশ খাওয়ার সময় পান্ডাদের রক্তপ্রবাহে মাইক্রোআরএনএ নামে এক বিশেষ জিনগত উপাদান প্রবেশ করে। ফলে তাদের আচরণ, ঘ্রাণশক্তি ও স্বাদের অনুভূতি নিয়ন্ত্রিত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাঁশের মাইক্রোআরএনএ পান্ডাদের বৃদ্ধি, জৈবিক কার্যক্রম, আচরণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এ প্রভাবের কারণেই বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর পান্ডারা স্বাভাবিকভাবেই পুষ্টিকর ও সতেজ বাঁশ চিহ্নিত করতে পারে।
গবেষক দলের প্রধান ড. লি ফেং বলেন, বাঁশের মাইক্রোআরএনএ পান্ডাদের ঘ্রাণশক্তি, স্বাদগ্রহণ ও ডোপামিন সংশ্লিষ্ট জৈব রাসায়নিক প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, যা তাদের খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।
বিজ্ঞানীরাও নিশ্চিত করেছেন, এ প্রভাবের কারণেই বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পরপরই পান্ডারা স্বাভাবিকভাবেই পুষ্টিকর ও সতেজ বাঁশ চিহ্নিত করতে পারে। আর এভাবেই একটি নির্ভরযোগ্য উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যাভ্যাসে এরা অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
গবেষকরা ছয়টি প্রাপ্তবয়স্ক ও একটি অপ্রাপ্তবয়স্ক পান্ডার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করে ৫৭টি ভিন্ন রকমের মাইক্রোআরএনএ শনাক্ত করেছে। আর এ মাইক্রোআরএনএগুলো বাঁশ থেকেই এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই গবেষণার মাধ্যমে উদ্ভিদের জিনগত উপাদান কীভাবে প্রাণীদের দেহে প্রভাব ফেলে তা আরো ভালোভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আশা করছে, এ আবিষ্কার ভবিষ্যতে রোগ প্রতিরোধ বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন পথ দেখাতে পারে।
ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের (ডব্লিউডব্লিউএফ) তথ্যানুসারে, পান্ডাদের খাদ্য প্রায় সম্পূর্ণরূপে বাঁশের পাতা, কাণ্ড ও অঙ্কুর দ্বারা গঠিত হলেও, তাদের খাদ্যের প্রায় ১ শতাংশ অন্যান্য উদ্ভিদ, এমনকি ছোট ইঁদুরের মতো প্রাণীর মাংস থেকেও আসে।
বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পান্ডা বন্য অবস্থায় বাস করে। এরা চীনের সিচুয়ান, শানসি ও গানসু প্রদেশের পর্বতমালায় ঘুরে বেড়ায়। প্রজননের দুর্বল ইচ্ছা পান্ডাদের সংরক্ষণে একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অবশেষে মা যখন শিশু পান্ডা জন্ম দেয়, তখন নবজাতক পান্ডারাও বেশ দুর্বল থাকে।
গত কয়েক দশকে চীন পান্ডাদের বাঁচাতে প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে। তারা পান্ডা রিজার্ভের সংখ্যা ১২ থেকে ৬৭-তে উন্নীত করেছে। —সিএনএন










