সহকারী অডিট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন মালয়েশিয়ার আলী রোসলিও । ৩৩ বছর বয়সী এ ফিন্যান্স লিড গত সাত বছরে দুটি চাকরি থেকে সংক্ষিপ্ত অবসর নিয়েছেন। প্রথমটি ২০১৯ সালে, দুই মাসের জন্য। দ্বিতীয়টি ২০২৫ সালের নভেম্বরে চার মাসের জন্য। মালয়েশিয়ায় একজন সহকারী অডিট ম্যানেজার হিসেবে কঠোর পরিশ্রমের পর তিনি প্রথম বিরতিটি নেন। যেখানে তাকে সপ্তাহে ৮০ ঘণ্টাও কাজ করতে হতো।
রোসলি জানান, অতিরিক্ত কাজের চাপ তাকে মানসিকভাবে পুরোপুরি ক্লান্ত করে ফেলেছিল। তিনি ভাবলেন, একটু বিশ্রাম নেয়ার এবং ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে চিন্তা করার পাশাপাশি দুই মাসের একটি দীর্ঘ ভ্রমণে বের হওয়া যায়।
ওই সময় রোসলির বার্ষিক আয় ছিল প্রায় ১৪ হাজার পাউন্ড, যার ২০-৪০ শতাংশ তিনি সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করতেন। এ সঞ্চয়ের টাকা দিয়েই তিনি বেইজিং থেকে রাশিয়া হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত সড়ক ও রেলপথে দীর্ঘ সফর করেন। ওই সফরকে তিনি তার জীবনের সেরা ভ্রমণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে রোসলি লন্ডনের একটি ফিন্যান্স ফার্মে সিনিয়র ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। এতে তার বার্ষিক বেতন প্রায় ছয় গুণ বেড়ে ৮৫ হাজার পাউন্ডে পৌঁছায়।
পরবর্তীতে নতুন কোনো পেশায় যাওয়ার কয়েকটি চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর রোসলি ফের বিরতির সিদ্ধান্ত নেন। এবার তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে চার মাসের জন্য মালয়েশিয়ায় ফিরে যান। সেখানে থাকাকালে পরিচিত ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দূরবর্তী বা রিমোট ফিন্যান্স প্রজেক্টের কাজ পেয়ে যান। লন্ডনে ফিরে বর্তমানে একজন স্বাধীন ফিন্যান্স কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করছেন তিনি। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্যারিয়ার ও সম্পদবিষয়ক কনটেন্ট তৈরি করছেন।
রোসলির মতে, হিসাব-নিকাশ করে নেয়া এ বিরতিগুলো তার ক্যারিয়ারে কোনো বাধা সৃষ্টি করেনি, বরং একে আরো সমৃদ্ধ করেছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলেন, এটি ক্যারিয়ারের গতিকে থামিয়ে দেয়ার বদলে আসলে আরো কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তিনি প্রতি চার বা পাঁচ বছর পর পর এমন আরো সংক্ষিপ্ত-অবসর নেয়ার পরিকল্পনা করছেন।
চলমান এ প্রবণতার পেছনে একটি ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালের এইচএসবিসি কোয়ালিটি অব লাইফ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অন্তত ১ লাখ ডলারের সম্পদ রয়েছে এমন বৃত্তবান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জেন জি ও মিলেনিয়ালরাই এ পরিবর্তনের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তারা অবসরকে কর্মজীবনের একেবারে শেষ প্রান্তের কোনো একক মুহূর্ত হিসেবে না দেখে, পরিকল্পিত কর্মবিরতির একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করছে।
লাইফ স্ট্র্যাটেজিস ফিন্যান্সিয়াল পার্টনার্সের আর্থিক পরিকল্পনাকারী কেলি রেনার বলেন, মানুষের যদি কাজের ক্ষেত্রে নমনীয়তা, চমৎকার বাজেট প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত সঞ্চয় থাকে, তবে এভাবে জীবনযাপন করার মধ্যে কোনো ক্ষতি নেই। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এগুলো না থাকলে এ ধরনের বিরতিগুলো একটি ‘আর্থিক বিপর্যয়’ ডেকে আনতে পারে। তা ছাড়া, জীবনবৃত্তান্তে কর্মহীন সময়ের কোনো যৌক্তিক কারণ না থাকলে তা চাকরির ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রয়টার্স অবলম্বনে










