এক সময় কল্পবিজ্ঞানের পাতায় বন্দি ছিল যে স্বপ্ন, আজ তা বাস্তবের দোরগোড়ায়। বিলুপ্ত প্রাণীদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা— যাকে ‘ডি-এক্সটিংশন’ বলা হচ্ছে, এখন আর নিছক কল্পনা নয়। জিন প্রকৌশল ও সিনথেটিক বায়োলজির অভূতপূর্ব অগ্রগতিতে এ স্বপ্ন ডানা মেলতে শুরু করেছে।

তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়া প্রাণী ফিরিয়ে আনার বদলে তাদের মতো দেখতে নতুন এক হাইব্রিড তৈরি করার প্রক্রিয়া।

ডি-এক্সটিংশন হলো এমন এক বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রাণীদের জিনগত উপাদান বিশ্লেষণ করে তাদের আধুনিক সংস্করণ তৈরি করা হয়। সহজভাবে বললে, এটি হারিয়ে যাওয়া কোনো প্রাণীকে তার কাছাকাছি বৈশিষ্ট্যের অন্য প্রাণীর জিনের মাধ্যমে নতুনভাবে তৈরি করার চেষ্টা।

সম্প্রতি কলোসাল বায়োসায়েন্সেস নামক একটি জৈবপ্রযুক্তি সংস্থা উলী ম্যামথ, ডোডো ও তাসমানিয়ান টাইগার ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ গবেষণায় বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। পিটার জ্যাকসন, প্যারিস হিলটন, টম ব্র্যাডি ও টাইগার উডসের মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এই প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।

বিজ্ঞানীরা তিনটি পদ্ধতিতে বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন—
প্রথমত, ক্লোনিং: ডলি ভেড়ার মতো প্রযুক্তিকে এর উদাহরণ হিসেবে টানা যায়। তবে এটি বিলুপ্ত প্রাণীদের জন্য তেমন কার্যকর নয়।
দ্বিতীয়ত, জিন সম্পাদনা: কোনো বিলুপ্ত প্রাণীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের জিন বদলে তার মতো দেখতে প্রাণী তৈরি করা। যেমন— এশীয় হাতির জিন পরিবর্তন করে ম্যামথের একটি নতুন সংস্করণ তৈরি করা হচ্ছে।
তৃতীয়ত, ব্যাক ব্রিডিং: এক্ষেত্রে নির্বাচিত প্রজননের মাধ্যমে বিলুপ্ত প্রাণীর বৈশিষ্ট্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। যেমন— ৯৯ শতাংশ অরক্সের মতো দেখতে ‘টরাস ক্যাটল’ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ডোডো ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে কঠিন। কারণ এ পাখির জিন সংরক্ষণের নমুনা পাওয়া কঠিন। তবে নিকোবর পায়রার জিন ব্যবহার করে নতুন এক প্রজাতি তৈরি হচ্ছে, যা দেখতে অনেকটা ডোডোর মতো হবে।

তবে এই ডি-এক্সটিংশন নিয়ে নানা বিতর্কও আছে। অনেকে বলছেন, বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার বদলে বিপন্ন প্রাণীদের রক্ষা করাই জরুরি। কিন্তু এ প্রযুক্তি বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণের নতুন দরজা খুলে দিতে পারে। কলসাল বায়োসায়েন্সেস এরই মধ্যে উত্তরাঞ্চলীয় সাদা গন্ডার সংরক্ষণ ও হাতির জন্য ভাইরাস প্রতিরোধী ভ্যাকসিন তৈরির কাজ করছে।

কলোসাল বায়োসায়েন্সেস আর্কটিক অঞ্চলে ম্যামথের হাইব্রিড ছেড়ে দিয়ে পারমাফ্রস্ট (বরফের স্তর) গলন কমানোর পরিকল্পনা করেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে না।

তাহলে ডি-এক্সটিংশন কি সত্যিই হারিয়ে যাওয়া প্রাণীদের ফিরিয়ে আনতে পারবে? নাকি এটি কেবল আধুনিক বিজ্ঞানের একটি চমক মাত্র? সেটি সময়ই বলে দেবে!

—সিএনএন