মনে করুন তো, হঠাৎ একদিন ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে দেখলেন বিশাল এক নদীর তীরে ঘাস খাচ্ছে নিরীহ একটি ডাইনোসর। হঠাৎ পানির নিচ থেকে বিশাল এক ছায়া উঠে এসে তাকে গিলে ফেলল মুহূর্তেই। আর সঙ্গে সঙ্গে ধড়ফড় করে ঘুম ভেঙে গেল আপনার। তবে স্বপ্ন হলেও এ ঘটনা সত্যি। প্রায় ৮২ মিলিয়ন বছর আগের প্রায় দিনেই এমন রক্ত হিম করা ঘটনা হরহামেশাই ঘটত। আর এরকম রক্ত হিম করা দৃশ্যের নায়ক ছিল ডাইনোসুকাস।
ডাইনোসুকাস একটি ভয়ংকর জলচর শিকারী। এর দাঁত ছিল কলার মতো বড় আর মেজাজ ছিল মরুভূমির রোদের মতো খিটখিটে। এরা লম্বায় ছিল আনুমানিক ২৬ ফুটের মতো।
সম্প্রতি কমিউনিকেশনস বায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় ডাইনোসুকাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন, এ কুমিরজাতীয় দৈত্য ছিল আধুনিক অ্যালিগেটরের চেয়ে অনেক বেশি অভিযোজিত। কারণ ডাইনোসুকাস লবণাক্ত পানি সহ্য করতে পারত—যা তাকে উত্তর আমেরিকার পশ্চিম ইন্টেরিয়র সিওয়ে পেরিয়ে এক উপকূল থেকে আরেক উপকূলে রাজত্ব করতে সাহায্য করেছিল।
এ লবণ সহ্যশক্তির রহস্য লুকিয়ে আছে এর বিশেষ শারীরিক গঠনে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ডাইনোসুকাসের শরীরে ছিল লবণ নিঃসরণকারী গ্রন্থি, যা আধুনিক অ্যালিগেটরের শরীরে অনুপস্থিত। আর এ বৈশিষ্ট্যই তাকে তার সময়ের সেরা শিকারিতে পরিণত করেছিল।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, ডাইনোসুকাসের খুলির গঠন ছিল অস্বাভাবিক—প্রশস্ত ও সামনের দিকে কিছুটা ফোলা। এর দাঁতের চিহ্নে মিলেছে বহু ডাইনোসর ও প্রাচীন কচ্ছপের ফসিল। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি শুধু শিকারেই পারদর্শী ছিল না। মৃত প্রাণীও খেত এ জাতের অ্যালিগেটরেরা। এক কথায় এরা ছিল জলাভূমির ক্লিনার ও শিকারি, দুই-ই।

জার্মানির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা অ্যালিগেটরের মাথার খুলি পরীক্ষা করছেন। এ গবেষণা বিলুপ্ত টেরর ক্রোকোডাইল বা ডাইনোসুকাসের খাদ্যাভ্যাস ও বিবর্তন বুঝতে সাহায্য করেছে।
এ প্রাণীর জীবাশ্ম মিলেছে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২টি রাজ্য ও মেক্সিকোর উত্তরে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি একাধিক প্রজাতির ছিল। এদের মধ্যে ডি. রিওগ্রানডেনসিস ও ডি. রুগোসাস উল্লেখযোগ্য। তবে নতুন গবেষণা বলছে, ডাইনোসুকাস আসলে আধুনিক অ্যালিগেটরের প্রজাতির নয়। বরং এরা ইউসুকিয়ানের এক ভিন্ন শাখার প্রতিনিধি।
গবেষকরা বলছেন, এটি এমন এক প্রাণী, যার উপস্থিতিতে নদী কিংবা মোহনায় কেউই নিরাপদ ছিল না। হয়তো আজ পৃথিবীতে আর এদের অস্তিত্ব নেই। তবে এদের জীবাশ্মগুলো এখনো বলে যায় এক সময় পানির তলে কেমন ত্রাস ছিল এদের!
—সিএনএন










