মঙ্গোলিয়ার গোবি মরুভূমিতে খননের সময় এক অজানা প্রজাতির ডাইনোসরের থাবা পাওয়া গেছে। এ থাবার বিশাল দুই আঙুলবিশিষ্ট নখ মানুষের কল্পনার চরিত্র এডওয়ার্ড সিজরহ্যান্ডস বা স্লথের মত দেখতে। এ ডাইনোসরের নাম দেয়া হয়েছে ডাইনোনিকাস সোয়েগটবাটারি। গ্রিক ভাষায় এর অর্থ দুই নখবিশিষ্ট জন্তু।

নতুন আবিষ্কৃত এ থেরিজিনোসর শ্রেণির ডাইনোসর প্রায় ১০ ফুট লম্বা ছিল। আর এদের ওজন ছিল প্রায় ২৬০ কেজি। এরা নিরামিষভোজী বা সর্বভুক ছিল। কিন্তু শিকারি ছিল না। বিশাল বাঁকানো নখ ব্যবহার করে গাছের পাতা ও ডাল টেনে খেত বলে মনে করছেন গবেষকরা। এর নখের নিচের হাড়ের তুলনায় নখের কেরাটিন শেল বড়। সাম্প্রতিক সময়ে অক্ষতভাবে পাওয়া সবচেয়ে বড় নখ এটি।

Capture

ডাইনোনিকাস সোয়েগটবাটারির দুই-থাবাযুক্ত হাত

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণ থেরিজিনোসরের তিনটি আঙুল থাকলেও এদের ছিল দুটি আঙুল। হাড়ের চেয়ে বড় আকৃতির কেরাটিনের নখ বিশাল, বাঁকানো ও এতটাই অক্ষত, যা দেখে গবেষকরাও বিস্মিত। তারা আরো বলেন, ডাইনোসরটি সম্ভবত পালকেও ঢাকা ছিল। এ কারণে তাদের চেহারা ছিল আরো বেশি অদ্ভুত।

Capture

কেরাটিনযুক্ত আবরণসহ থেরিজিনোসর শ্রেণির ডাইনোসরের থাবার জীবাশ্ম

মঙ্গোলিয়া একাডেমি অব সায়েন্সের প্রত্নতাত্ত্বিকদের খননে ডাইনোসরটির হাড়, লেজ, হিপ, হাত ও পায়ের অংশ পাওয়া গেছে। এর হাতের গঠন ছিল বারবিকিউ টঙের মতো। আর নখগুলো ছিল বড় ও তীক্ষ্ণ। এগুলো শুধু গাছ ধরতেই নয়, আত্মরক্ষার জন্যও ব্যবহৃত হত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ আবিষ্কার প্রাচীন প্রাণীদের আচরণ, গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে মানুষের ভাবনার জগতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

—সিএনএন