সাধারণত যে সব গ্রুপের রক্ত প্রতি ১০০০ জনের মধ্যে ১ জনের শরীরে থাকে, তাই ‘বিরল’ রক্তের গ্রুপ নামে পরিচিত। ও নেগেটিভ হল তেমন একটি বিরল রক্তের গ্রুপ। তবে প্রতি ৬০ লাখ মানুষের মাঝে মাত্র একজনের শরীরে রয়েছে আরএইচ নাল গ্রুপের রক্ত।
বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন, এটিই বিশ্বের বিরলতম গ্রুপের রক্ত। শুধু বিরল হওয়ায় নয়, চিকিৎসা ও গবেষণাতে-ও এ রক্তের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
রক্ত পরিবহন আধুনিক চিকিৎসার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুর্ঘটনা বা জটিল অস্ত্রোপচারের সময় অন্যের দানকৃত রক্ত জীবন বাঁচাতে পারে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে আরএইচ নাল গ্রুপের মানুষের সংখ্যা মাত্র ৫০। তাই প্রয়োজনে তাদের ম্যাচিং রক্ত পাওয়া প্রায় অসম্ভব। বেশ কয়েক বছর ধরেই বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে এ রক্ত উৎপাদন করার চেষ্টা করছেন।
আরএইচ নাল গ্রুপের রক্তকে চিকিৎসা ও গবেষণার জগতে ‘সোনালী রক্ত’ বলা হয়। এর বিশেষত্ব হলো, এটি সমস্ত আরএইচ রক্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থাৎ, এ রক্ত ব্যবহার করে ভবিষ্যতে যে কোনো গ্রুপের মানুষের জন্য রক্ত পরিবহন বা ট্রান্সফিউশন করা সম্ভব হতে পারে। কারণ নাল গ্রুপে কোনো অ্যান্টিজেন থাকে না। আর দাতার সঙ্গে অ্যান্টিজেনের অমিল হলে গ্রহীতার দেহে বিপজ্জনক অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।
২০১৮ সালে ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাশ টোয় ও তার দল জিন সম্পাদনার মাধ্যমে ল্যাবরেটরিতে নাল গ্রুপের রক্ত তৈরি করেন। তারা এতে যে ইম্যাচিউর ব্লাড সেল ব্যবহার করেছেন সেটি পাঁচটি প্রধান ব্লাড গ্রুপের অ্যান্টিজেন সরিয়ে দেয়। এর ফলে এমন রক্ত তৈরি হয় যা প্রায় সব ধরনের রক্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
কিন্তু জিন সম্পাদনা এখনও অনেক দেশে নিয়ন্ত্রিত ও বিতর্কিত। তাই ল্যাবে তৈরি রক্ত ক্লিনিক্যাল ব্যবহারের জন্য অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বিবিসি অবলম্বনে










