শীতকালে সাধারণত ত্বক শুষ্ক থাকে। বিশেষ করে যাদের ত্বক জন্মগত ত্রুটি বা বার্ধক্যজনিত কারণে শুষ্ক। তাদের ত্বকে নানা সমস্যায় ভোগার আশঙ্কা থাকে।

জন্মগত ত্বকের রোগ যেমন ইকথায়োসিসি। এ রোগ শীতে বাড়ে। এটি একটি বংশগত রোগ। এ রোগের কারণে চামড়া ফেটে যায়। মাছের আঁশের মতো ফেটে যায়। অন্যান্য অসুখের কারণেও এ রোগ হতে পারে। যেমন লেপ্রসি, হজকিন ডিজিস, তীব্র অপুষ্টি, হাইপোথাইরয়েডিজম) জটিলতা হিসেবে ইকথায়োসিস দেখা দিতে পারে। ত্বক ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি ত্বকে গুটি থাকতে পারে।

চুলকানি (স্ক্যাবিস) রোগটি শীতকালে খুব বেশি হয়। যেহেতু স্ক্যাবিস ছোঁয়াচে রোগ। যার কারণে একজন আক্রান্ত হলে একই সঙ্গে আরো অনেকে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অপরিষ্কার থাকলেও এ রোগ বিস্তার লাভ করে। ঠাণ্ডার সময় অনেক মানুষই নিয়মিত গোসল করে না। যার কারণে চুলকানি এবং বিভিন্ন খোসপাঁচড়া দেখা দেয়।

সোরিয়াসিস নামের ক্রনিক চর্মরোগও শীতকালে বাড়ে। শীত পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ রোগাক্রান্তদের উপসর্গগুলো দেখা দিতে থাকে। এ রোগে হাতে-পায়ে বা মাথায় চাকা চাকা চামড়া ছাল উঠে আলগা হয়ে যায়, ছাল তুললে পিন পয়েন্ট ক্যাপিলারি বা ছোট ছোট রক্ত বিন্দুর মতো দেখা যায়।

ইনফ্যানটাইল একজিমাও শীতে বেড়ে যায়। এটি সাধারণত শিশুদের বেশি হয়। শীতকালে এগুলো বাড়তে দেখা যায়। তবে শীতে ছত্রাকজনিত চর্মরোগ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন একটু কমে। কারণ শীতে ঘাম কম হয় এবং চামড়ার স্যাঁতসেঁতে ভাব একটু কম থাকে। খুব তীব্র শীতে চিলব্রেন নামের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। এটি রক্তবাহী নালি বা শিরা-উপশিরার অসুখ। আঙুলের ডগা লাল হয়ে যায়। শেষে আলসারও হতে পারে। গৃহবধূদের এ রোগ বেশি দেখা যায়।

রেনডস ডিজিসও আর একটি শীতকালের ত্বকরোগ। এতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় শিরা-উপশিরা অস্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হয়ে যায়। এতে আঙুলের ডগায় ব্যথা, আঙুল প্রথমে সাদা ও পরে নীলচে আকার ধারণ করে, শেষে কালচে ঘা হয়।

শীতের চর্মরোগ সঠিক চিকিৎসা দিয়ে আয়ত্তে আনা সম্ভব। অনেকেই ত্বকের অসুখকে তেমন গুরুত্ব দেন না। চিকিৎসা না করিয়ে বাড়িয়ে ফেলেন। চর্মরোগ কিন্তু জটিল আকার ধারণ করতে পারে, বিশেষত ঠাণ্ডায়। কাজেই যথাসময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।