থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর যত্নের মূল লক্ষ্য হলো নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন (ট্রান্সফিউশন) নিশ্চিত করা। এছাড়া শরীর থেকে অতিরিক্ত আয়রন বের করার জন্য আয়রন চিলেশন থেরাপি দেয়া, পাশাপাশি পুষ্টিকর সুষম খাবার নিশ্চিত করা। বিশেষজ্ঞ হেমাটোলজিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চেকআপ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শিশুর আয়ু ও জীবনযাত্রার মান বাড়াতে সাহায্য করে।
চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ
নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পরপর (সাধারণত প্রতি তিন-চার সপ্তাহ) রক্ত দিতে হবে, যাতে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকে ।
আয়রন চিলেশন থেরাপি: বারবার রক্ত নেয়ার ফলে শরীরে আয়রন জমে, যা লিভার ও হার্টের ক্ষতি করতে পারে। তাই শরীর থেকে অতিরিক্ত আয়রন বের করতে নিয়মিত ‘চিলেশন থেরাপি’ (ওষুধ) গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: একজন শিশু রক্তরোগ বিশেষজ্ঞ বা থ্যালাসেমিয়া বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে।
ভ্যাকসিন ও সংক্রমণ রোধ: নিয়মিত টিকা দেয়া এবং সংক্রমণের লক্ষণ (যেমন জ্বর) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
খাদ্য ও পুষ্টি
লো-আয়রন ডায়েট: আয়রনসমৃদ্ধ খাবার (যেমন কলিজা, লাল মাংস) এড়িয়ে চলতে হবে। খাবার রান্নায় লোহার কড়াই ব্যবহার না করা ভালো।
উচ্চ আয়রন শোষণ হ্রাস: খাবার খাওয়ার সময় বা খাবারের সঙ্গে চা পান করা আয়রন শোষণ কমাতে সাহায্য করে।
ভিটামিন সি ও ক্যালসিয়াম: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার খেতে দিতে হবে, তবে অতিরিক্ত ভিটামিন সি আয়রন বাড়িয়ে দিতে পারে, তাই সতর্ক থাকতে হবে।
মানসিক ও সামাজিক যত্ন: দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণে শিশু মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে পারে, তাই তাদের সাহস ও ভালোবাসা দেয়া জরুরি।
সচেতনতা: থ্যালাসেমিয়া কোনো সংক্রামক রোগ নয়, এটি একটি বংশগত রোগ।
সক্রিয় থাকা: সাধারণ খেলাধুলা বা পড়াশোনায় উৎসাহিত করতে হবে, তবে খুব ভারী কাজ বা ক্লান্তিকর কিছু না করাই ভালো।
সতর্কবার্তা
শরীরে আয়রন জমেছে কিনা তা নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা আয়রন সমৃদ্ধ খাবার দেয়া যাবে না ।
শরীরের বৃদ্ধির দিকে লক্ষ রাখতে হবে এবং সময়মতো বয়ঃসন্ধি আসছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।










