ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বা আইবিএস পেটের একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এটিকে অনেকে আমাশয়ও বলে থাকেন। দেশের ১০ শতাংশ মানুষ এ রোগে ভুগে থাকে। পুরুষদের তুলনায় নারীরাই এ রোগে বেশি ভোগেন। ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম হচ্ছে পরিপাকতন্ত্রের ফাংশনাল সমস্যা। এখানে পরিপাকতন্ত্রের গঠনগত কোনো পরিবর্তন হয় না।
আইবিএসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই, তবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। যেসব খাবার খেলে সমস্যা হয় সেসব খাবার খাওয়া পরিহার করতে হবে। বিশেষ করে দুধ ও দুধের তৈরি বিভিন্ন খাবার, শাকপাতা। কোন খাবারে কোন রোগীর সমস্যা হয় সেটা আগে থেকে চিহ্নিত করতে পারলে এবং সেই খাবার যদি পরিহার করা যায় তাহলে রোগী অনেকটা ভালো থাকবেন। এছাড়া রোগীর মানসিক চাপ, উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা কমাতে হবে। প্রয়োজনে আইবিএসের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক ওষুধ দেবেন রোগীকে।
সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে রোগী নিজেই আইবিএস নিয়ন্ত্রণ করে সুস্থ থাকতে পারবেন। এক্ষেত্রে কিছু খাবার পরিহার করতে হবে। যেমন দুধ ও দুধের তৈরি খাবার, শাকপাতা, অতিরিক্ত মসলাযুক্ত, তেলে ভাজা ও ডিপ ফ্রাই খাবার পরিহার করতে হবে। প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে খাবার খেতে হবে। একসঙ্গে অনেক খাবার না খেয়ে সারাদিন অল্প অল্প করে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। মুক্ত বাতাসে নিয়মিত হাঁটা এবং মানসিক চাপ কমাতে ধ্যান ও নিয়মিত ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে।
আইবিএসের লক্ষণ
দীর্ঘদিন ধরে পেটব্যথা।
মলত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন যেমন—পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়া, পেট ফুলে থাকা এগুলো সাধারণত আইবিএসের মূল লক্ষণ।
দুধ এবং দুধের তৈরি খাবার, শাকপাতা, ফাস্ট ফুড, পোলাও, বিরিয়ানি, মসুর ডাল, অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার। এ ধরনের খাবার খেলে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম বেশি হয়ে থাকে।৷
মূলত লক্ষণ এবং রোগের ইতিহাস শুনেই আইবিএস শনাক্ত করা হয়। তবে পরিপাকতন্ত্রজনিত অন্য কোনো জটিলতা বা সমস্যা আছে কিনা সেটি জানার জন্য অনেক সময় কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হয়।










