দেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ হাড় ক্ষয় রোগে আক্রান্ত এবং এই রোগে নারীরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগে আক্রান্তদের অনেকেই তাদের রোগ সম্পর্কে জানেন না এবং আক্রান্তদের সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না হলে তা আরো গুরুতর অবস্থার ধারণ করতে পারে। এমনকি ছয় মাসেই মৃত্যু ঘটতে পারে। চিকিৎসকরা বলছেন তাদের ধারণা আগামী কয়েক বছরে নন-কমিউনিকেবল যেসব রোগে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয় তার মধ্যে শীর্ষ পাঁচে এই হাড় ক্ষয় রোগ উঠে আসবে।
- বয়সের হিসেবে পুরুষদের তুলনায় নারীরা আগে অস্টিওপরোসিসে ভোগেন এবং নারীদের এতে আক্রান্তের ঝুঁকিও বেশি।
- অনেকের জিনগত বৈশিষ্ট্য, খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার ওপরেও এ হাড়ের সবলতা নির্ভর করে। যেমন আফ্রিকার মানুষদের হাড়ের গঠন প্রকৃতিগতভাবেই মজবুত, সেক্ষেত্রে পিছিয়ে আছে শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় অঞ্চলের মানুষ।
- স্থূলতায় ভুগছেন অথবা অপুষ্টিতে আক্রান্ত এমন ব্যক্তিরা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকিতে থাকেন।
- পরিবারে অন্য সদস্যের এ রোগ থেকে থাকলে তার পরবর্তী প্রজন্মেও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
- যাদের ধূমপান, অতিরিক্ত মদপান ও মাদক সেবনের মতো অভ্যাস থাকে, সেটিও হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
- ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হলে হাইপার থাইরয়েডিজম বা হরমোনের ভারসাম্যহীনতা থাকলে, ডায়াবেটিস, ক্যান্সারের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের।
- অ্যানোরেক্সিয়া বা বুলিমিয়ার মতো খাওয়ার ব্যাধি থাকলে এর ঝুঁকি বাড়ে।
- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও এ রোগ হওয়ার বড় কারণ; বিশেষ করে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে উচ্চ ডোজের স্টেরয়েড ট্যাবলেট গ্রহণ করলে, অ্যান্টি-অ্যাস্ট্রোজেন ট্যাবলেট খেলে যেটা নারীরা স্তন ক্যান্সারের পরে গ্রহণ করেন।
- সাধারণত কবজির হাড়, ঊরুর হাড় ও মেরুদণ্ডের হাড় সবচেয়ে দুর্বল অবস্থায় থাকে। আবার বাহু, কোমর এমনকি পাঁজরের হাড়ও নরম হয়ে যায়।
এ রোগ থেকে শতভাগ সুস্থ হওয়ার ওষুধ নেই। তবে একে প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে হাড়ের ক্ষয়ের গতি কমানো সম্ভব। অস্টিওপরোসিসের বা হাড় ক্ষয়ের আগের পর্যায়কে বা রোগের প্রাথমিক অবস্থাকে অস্টিওপেনিয়া বলা হয়। এ পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অস্টিওপোরোসিসের গতি কমানো সম্ভব।









