হাড়ের ক্ষয়রোগে পুরুষের তুলনায় নারীরা বেশি আক্রান্ত হন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি বাড়তে থাকে। বিশেষ করে নারীদের মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার পর শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যায়। ফলে হাড় ক্ষয়ের মাত্রা বেড়ে যায়।

কারণ

মেনোপজ বা ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যাওয়া।

পর্যাপ্ত পরিমাণ শারীরিক পরিশ্রম না করা।

পর্যাপ্ত পরিমাণ ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি গ্রহণ না করা।

শরীরে ওজন (বিএমআই অনুযায়ী অতিরিক্ত কম হলে)।

অতিরিক্ত ধূমপান বা অ্যালকোহল গ্রহণ

তাছাড়া কিছু কিছু অসুখ হাড় ক্ষয়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। যেমন শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা কমে গেলে, শরীরে থাইরয়েড বা প্যারাথাইরয়েড হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে। যে রোগে খাবার শোষণ ব্যাহত হয় যেমন সিলিয়াক ডিজিজ, ক্রনস ডিজিজ। যেসব রোগে দীর্ঘদিন শুয়ে থাকতে হয়, হাঁটাচলা করতে পারে না, সে ক্ষেত্রে হাড়ের ক্ষয় বেশি হয়। যেমন ব্রেন স্ট্রোক, এমআইভি, স্তন ক্যান্সার ইত্যাদি।

তাছাড়া কিছু ওষুধও হাড়ের ক্ষয় বাড়িয়ে দেয়। যেমন কর্টিকোস্টেরয়েড, খিঁচুনিবিরোধী ওষুধ ও ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ।

লক্ষণ

যেহেতু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড় ক্ষয় একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে তেমন কোনো লক্ষণ থাকে না। কিন্তু হাড়ের ভেতরের উপাদান অধিক পরিমাণ কমে গেলে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা যায়। যেমন সারা শরীরে ব্যথা অনুভূত হওয়া, বেশিক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা চলাচল করতে কষ্ট হওয়া, শরীরে ভারসাম্য না থাকা, যার কারণে পড়ে গিয়ে হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। এ কারণে নারীদের হিপ ফ্যাকচার বেশি দেখা যায়।

করণীয়

হাড় ক্ষয়ে প্রাথমিক অবস্থায় তেমন উপসর্গ থাকে না। লক্ষণ প্রকাশ পেলেই এ রোগে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ হাড় ক্ষয়ের ফলে হাড়ের ঘনত্ব কমে দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে যায়। ফলে সামান্য আঘাত লাগলে শরীরের বিভিন্ন জায়গার হাড় ভেঙে যেতে পারে।