‘ওভারিয়ান সিস্ট’ ডিম্বাশয়ের ভেতরে হয়। থলির মতো মাংসল পিণ্ড তৈরি হয়, যার ভেতরে রক্ত বা যেকোনো ধরনের ফ্লুইড থাকতে পারে। সিস্ট মানে টিউমারের মতো গ্রোথ, তবে তা ক্যান্সার নয়। টিউমার ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সার) ও বিনাইন (ক্যান্সারহীন) দুই রকমেরই হয়। যদি তা ক্যান্সারের দিকে বাঁক নেয়, তাহলে সিস্টের ভেতরের দেয়াল পুরু হয়ে উঠবে এবং সেখানকার কোষের অনিয়মিত বিভাজন শুরু হবে। সিস্টের থলি ফেটে গিয়ে পুঁজ বা রক্ত বের হতে থাকবে।

বয়ঃসন্ধিকালে ঋতুস্রাব শুরুর সময় থেকেই মেয়েদের জরায়ুতে সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে সিস্ট যদি হয়, তা তাড়াতাড়ি সেরেও যায়। সমস্যা তৈরি হয় মাসিক বন্ধ হওয়ার পর। সে সময়ে নারীদের শরীরে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিমাণ কমে যায়। তাই হরমোনের গোলমালের কারণে সিস্ট হলে তখন পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে ওঠে। যার কারণে মেনোপজের পরও রক্তপাত শুরু হতে পারে।

পিসিওএস (পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম) যাদের আছে, তাদের ‘ওভারিয়ান সিস্ট’ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। পিসিওএসে ওজন অতিরিক্ত বেশি হয়ে গেলে তখন ঝুঁকি বাড়ে। এন্ডোমেট্রিওসিস থাকলেও সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। হরমোন থেরাপি যারা করিয়েছেন বা করাচ্ছেন, তাদেরও জরায়ুতে সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং মাসিক ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়, এমন নারীদেরও সিস্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি। স্তন ক্যান্সারের ওষুধ খান বা আগে রেডিওথেরাপি বা কেমোথেরাপি হয়েছে, এমন নারীরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে।

ডিম্বাশয়ে সিস্ট থাকলে ডিম্বাণু বের হওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়। ফলে গর্ভধারণে অসুবিধা হয়। তবে তারও চিকিৎসা রয়েছে। ক্যান্সার হলে বা বড় সিস্ট আশপাশের অঙ্গের ক্ষতি করে বলে তা বাদ দিতে হয়। সিস্ট ক্ষতিকর কিনা তা জানতে কিছু টিউমার মার্কার টেস্ট করা হয়। ডিম্বাশয়ের সিস্ট বিনাইন না ম্যালিগন্যান্ট জানতে সিএ১২৫ রক্ত পরীক্ষা করা হয়। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে সিস্টের পানি বের করে নেয়া হয়। ক্যান্সার হলে সার্জারি করে সিস্ট বাদ দিতে হয়। তবে সিস্ট হলেই অস্ত্রোপচার নয়। শরীরের অনেক জায়গায়ই ছোট সিস্ট থাকে। সেক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা করা হয়।