আমরা প্রতিদিন শরীরের যত্ন নেই— হাঁটি, ব্যায়াম করি, খাওয়া-দাওয়া সামলাই। কিন্তু শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, মস্তিষ্কের দিকে কতটা খেয়াল রাখি?
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল আমেন বলছেন, মানুষের সবচেয়ে বড় ভুলই হচ্ছে মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের কথা না ভাবা।
সম্প্রতি গবেষক ড্যান বুয়েটনারের পডকাস্ট লাইভ টু ১০০ এ কথা বলতে গিয়ে ড. আমেন বলেন, মানুষ আসলে তাদের মস্তিষ্ককে নিয়ে ভাবে না। অথচ এটি জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।
তিনি জানালেন, তিনিও একটা সময় পর্যন্ত মস্তিষ্ককে সেভাবে গুরুত্ব দিতেন না। অথচ তিনি ছিলেন বোর্ড-সার্টিফাইড মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও মেডিকেল স্কুলের সেরা নিউরোসায়েন্স ছাত্র। কিন্তু তার জীবনের নিয়ম ছিল অনিয়মিত— রাত জেগে কাজ, দিনে চার ঘণ্টার বেশি ঘুম নয়, সঙ্গে বাড়তে থাকা ওজন। পরে নিজের মস্তিষ্ক স্ক্যান করে বুঝতে পারলেন সমস্যার শুরুটা আসলে কোথায়। আর সেখান থেকেই শুরু হলো তার নতুন যাত্রা।
এরপর তিনি অভ্যাস পাল্টালেন। নিয়মিত ব্যায়াম শুরু করলেন, পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করলেন, খাবারে আনলেন ভারসাম্য। শুধু তাই নয়, মস্তিষ্কের যত্ন নেয়া নিয়ে সাধারণ মানুষকেও সচেতন করতে উদ্যোগী হলেন। লিখলেন একের পর এক বই। এ বছরই প্রকাশিত হচ্ছে তার নতুন বই ‘চেঞ্জ ইউর ব্রেইন, চেঞ্জ ইউর পেইন’।
ড. আমেন মনে করেন, মস্তিষ্ক সুস্থ রাখতে কঠিন কিছু নয়, বরং কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে চলাই যথেষ্ট। যেমন—
- নিয়মিত ব্যায়াম করা
- নতুন কিছু শেখা
- খাবারে ওমেগা-৩ রাখা
- চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া
- পরিবারে কী ধরনের অসুখ আছে তা জেনে আগে থেকে প্রতিরোধ পরিকল্পনা করা
- পর্যাপ্ত ঘুমানো
- গাড়ি চালানোর সময় কখনোই ফোনে টেক্সট না করা
- নেশাদ্রব্য ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকা
- শরীর ডিটক্স করতে সাউনা ব্যবহার করা
- মস্তিষ্কের নেতিবাচক ভাবনাকে প্রশ্রয় না দেয়া
- ভিটামিন ডি এর মাত্রা পরীক্ষা করে ঠিক রাখা
- হরমোনের ভারসাম্য পরীক্ষা করা
সবশেষে তিনি মনে করিয়ে দেন, মস্তিষ্ককে ভালোবাসতে হবে ও যত্ন নিতে হবে। কারণ শরীরের অন্য অঙ্গের মতো মস্তিষ্কও অবহেলা সহ্য করে না। যদি মস্তিষ্ক অসুস্থ হয়ে পড়ে, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তার প্রভাব পড়বে।
—এনডিটিভি থেকে নেয়া









