আর্থ্রাইটিসের ধরন ও তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণত দেখা যায়—

  • জয়েন্টে ব্যথা: আক্রান্ত জয়েন্টে স্থায়ী বা মাঝে মাঝে ব্যথা।
  • শক্ত হয়ে যাওয়া: বিশেষ করে সকালে বা দীর্ঘ সময় বসে/শুয়ে থাকার পর জয়েন্ট নড়াচড়া করতে কষ্ট হওয়া।
  • ফোলা: জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, স্পর্শে ব্যথা লাগা ও উষ্ণ অনুভূত হওয়া।
  • নড়াচড়ার পরিসর কমে যাওয়া: জয়েন্ট পুরোপুরি নাড়াতে না পারা।
  • লালচে ভাব ও উষ্ণতা: প্রদাহের কারণে জয়েন্ট লাল ও গরম হয়ে যেতে পারে।
  • ক্লান্তি: সার্বিক দুর্বলতা বা অবসাদ, বিশেষ করে প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসে।

ধরন

আর্থ্রাইটিসের অনেক ধরন রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • অস্টিওআর্থ্রাইটিস: সবচেয়ে সাধারণ ধরন। এতে জয়েন্টের কার্টিলেজ ক্ষয় হয়ে যায়, ফলে ব্যথা, ফোলা ও জয়েন্টের নমনীয়তা কমে যায়।
  • রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস: একটি অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজেই জয়েন্টের আবরণে আক্রমণ করে। সাধারণত শরীরের উভয় পাশের জয়েন্ট সমানভাবে আক্রান্ত হয়।
  • সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস: সোরিয়াসিসের সঙ্গে সম্পর্কিত। এতে ত্বক ও জয়েন্ট উভয়ই আক্রান্ত হয় এবং সময়ের সঙ্গে জয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
  • অ্যাঙ্কাইলোজিং স্পন্ডিলাইটিস: মূলত মেরুদণ্ড ও নিতম্বের জয়েন্টে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে পিঠ ও নিতম্বে ব্যথা ও শক্ত ভাব হয়।
  • গাউট: জয়েন্টে ইউরিক অ্যাসিড স্ফটিক জমে যাওয়ার কারণে হয়। হঠাৎ তীব্র ব্যথা, লালচে ভাব ও ফোলা দেখা যায়, সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙুলে।
  • জুভেনাইল আর্থ্রাইটিস: ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে দেখা যায়। এর মধ্যে জুভেনাইল আইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস অন্যতম।
  • লুপাস আর্থ্রাইটিস: সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেমাটোসাসের সঙ্গে যুক্ত, যেখানে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শরীরের বিভিন্ন টিস্যু ও জয়েন্টে আক্রমণ করে।

ঝুঁকির কারণ

আর্থ্রাইটিসের কারণ ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবে সাধারণ ঝুঁকির উপাদানগুলো হলো—

  • বংশগত কারণ: পরিবারে আর্থ্রাইটিসের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বাড়ে।
  • বয়স: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক ধরনের আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • লিঙ্গ: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ও লুপাস নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
  • আঘাত: আগের কোনো জয়েন্টের আঘাত ভবিষ্যতে আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন হাঁটু ও নিতম্বের মতো জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
  • অটোইমিউন রোগ: শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিজ টিস্যুকে আক্রমণ করলে আর্থ্রাইটিস হতে পারে।

চিকিৎসার পর যত্ন ও ব্যবস্থাপনা

  • নিয়মিত ফলোআপ: ডাক্তারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ।
  • জয়েন্ট সুরক্ষা: অতিরিক্ত চাপ এড়ানোর কৌশল।
  • ব্যায়াম ও পুনর্বাসন: দীর্ঘমেয়াদে জয়েন্ট সুস্থ রাখতে সহায়ক।
  • ব্যথা নিয়ন্ত্রণ: দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা সামলানোর কৌশল।

জটিলতা

  • জয়েন্টের স্থায়ী ক্ষতি ও বিকৃতি
  • চলাফেরার ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • পেশি দুর্বলতা
  • অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বিশেষ করে হৃদরোগের মতো জটিলতা