থ্যালাসেমিয়া এক ধরনের রক্তশূন্যতা। এটি একটি জন্মগত রোগ, যা এক পরিবার থেকে আরেক পরিবারে বংশপরম্পরায় চলতে থাকে। তাদের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নিয়মিত রক্ত নিয়ে বেঁচে থাকতে হয়। আবার কিছু থ্যালাসেমিয়া রোগীর উপসর্গ ও রক্তের প্রয়োজন মাঝামাঝি অবস্থানে থাকে বিধায় তাদের থ্যালাসেমিয়া ইন্টারমেডিয়া বলে। জনসংখ্যার প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বাহক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

থ্যালাসেমিয়ার বাহকে-বাহকে বিয়ে যখন হবে, তখন তাদের চারজন সন্তানের মধ্যে অন্তত একজন থ্যালাসেমিয়া রোগী হতে পারে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় তাদের দুটি সন্তানই থ্যালাসেমিয়ার রোগী হয়ে জন্ম নিতে পারে। থ্যালাসেমিয়ার বাহক যত বাড়বে, রোগীর সংখ্যা তত বাড়বে।

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে বাংলাদেশে প্রতি বছর ছয়-সাত হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এ রোগ প্রতিরোধ করা জরুরি। এটি করতে না পারলে বাহক ও রোগী দুটোই বাড়বে। ফলে দেশের আর্থসমাজিক বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম চালু করা: উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে যাদের বয়স ২৫-৩৫-এর মধ্যে বিশেষ করে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আনতে হবে। তারা থ্যালাসেমিয়ার বাহক কিনা সেটি বিয়ের আগে জানতে হবে, অর্থাৎ বাহক শনাক্ত করতে হবে।

বিয়ের আগে থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা: এটি করলে তারা বাহক কিনা জানতে পারবে এবং নিজেরা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। কারণ দুজন বাহকের বিয়ে হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়া রোগী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

গর্ভাবস্থায় পরীক্ষা: থ্যালাসেমিয়ার বাহকদের মধ্যে যদি বিয়ে হয়েই যায় সেক্ষেত্রে গর্ভাবস্থার ১০-১২ সপ্তাহের মধ্যে প্রিন্যাটাল ডিএনএ টেস্ট করতে হবে। সন্তান থ্যালাসেমিয়ার রোগী কিনা সেটি এ পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাবে, যার ভিত্তিতে বাবা-মা ভবিষ্যৎ সন্তানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

পরিবারের মধ্যে বিয়ে না করা: পরিবারে না জানা থ্যালাসেমিয়ার বাহক থাকতে পারে। সে কারণে পরিবারের মধ্যে বিয়ে নিরুৎসাহিত করা উচিত।

প্রচার-প্রচারণা: জনসাধারণকে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতন করা জরুরি। থ্যালাসেমিয়া কোনো ক্যান্সার বা ছোঁয়াচে রোগ নয়; এটা প্রতিরোধযোগ্য জন্মগত রোগ। স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তকে থ্যালাসেমিয়া বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।