চুল ঝরে পড়া একটি স্বাভাবিক সমস্যা। নানা কারণে নানান সময়ে চুল ঝরে। তবে হঠাৎ করে যদি মাথার কিছু কিছু জায়গায় গোল গোল করে চুল ঝরতে থাকে তবে তা অবশ্যই উদ্বেগের। অনেকের দাঁড়ি, ভ্রু, হাত, পা এমনকি বুকের লোমের ক্ষেত্রেও এ সমস্যা দেখা দেয়। এটা মূলত ত্বক বা চুলের রোগ। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে অ্যালোপেসিয়া এরিয়েটা বলে।
অ্যালোপেসিয়ার পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। জিনগত, অটোইমিউন ডিজঅর্ডার, হরমোনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ বা কিছু ওষুধের প্রভাবসহ নানা কারণে এভাবে চুল ঝরতে পারে। সবচেয়ে পরিচিত ধরনের মধ্যে রয়েছে অ্যান্ড্রোজেনেটিক অ্যালোপেসিয়া। পুরুষের দেহে অ্যান্ড্রোজেন হরমোন অধিকমাত্রায় থাকায় তাদের টাক পড়ার প্রবণতা বেশি।
কারণ:
চিকিৎসকদের মতে, চুল পড়া মূলত শরীরে কোন ভিটামিন বা খনিজের অভাবের লক্ষণ। দীর্ঘদিন কোন রোগে ভুগলেও অ্যালোপেসিয়া হতে পারে। যেসব কারণে চুল পড়তে পারে তার মধ্যে রয়েছে: অসুস্থতা বা দীর্ঘমেয়াদী রোগভোগ, মানসিক চাপ, ওজন হ্রাস, আয়রনের ঘাটতি, ভিটামিন বি ও ডি এর অভাব, প্রোটিনের অভাব, মাথায় খুশকি, মানসিক অবসাদ ও বিষাদ, ক্যান্সারের চিকিৎসা।
চিকিৎসা, অভ্যাস ও খাদ্যাভাস
যদি হঠাৎ করে গোছা গোছা চুল পড়া শুরু হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত চুল পড়া থাকে বা চুল পড়ার সঙ্গে চুলকানি, লালচে ভাব বা ব্যথা অনুভূত হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকরে পরামর্শ নেয়া উচিৎ। সাধারণত স্টেরয়েড বা ট্যাক্রোলিমাস জাতীয় ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
চুল ঝরা রোধ করতে প্রথমত দেহের পুষ্টি ও ভিটামিনের অভাব পূরণ করা উচিৎ।
- বায়োটিন সমৃদ্ধ খাবার খান, যেমন: ডিম, বাদাম, শাকসবজি।
- আয়রন ও জিংকের জন্য খাদ্যতালিকায় ডাল, কুমড়ার বীজ, গোটা শস্য যুক্ত করুন।
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও ভালো ঘুম নিশ্চিত করুন।
- মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। হাঁটা, ডায়েরি লেখা বা শ্বাসের ব্যায়াম এক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।
ঘরোয়া প্রতিকার
ঘরোয়া প্রতিকার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিছু ক্ষেত্রে চুল পড়া ধীর করতে সহায়ক। নারকেল তেল, পেঁয়াজের রস, রোজমেরি তেল ইত্যাদি মাথার ত্বক পুষ্ট করে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এসব অ্যালোপেসিয়া নিরাময় করবে, এমনটা না-ও হতে পারে। তবে মাথার ত্বকের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সেইসঙ্গে চিকিৎসার সম্পূরক হিসেবে কাজ করে।










