রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাস বা আরএসভি মূলত একটি আরএনএ ভাইরাস, যা শ্বাসতন্ত্রে সংক্রমণ ঘটায়। নবজাতক, ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা এ ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হন। ঋতু পরিবর্তনের সময় বিশেষ করে শীতকালে আরএসভি ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যায়। শুরুতে মৃদু সর্দি-কাশির মতো লক্ষণ দেখা দিলেও ধীরে ধীরে এটি নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কিওলাইটিসের মতো গুরুতর অবস্থার সৃষ্টি করে।

যেভাবে সংক্রমণ ঘটায়

সংক্রমিত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি, শ্লেক্ষ্মা বা লালা এবং ভাইরাস সংক্রমিত হাত দিয়ে কোনো কিছু স্পর্শের মাধ্যমে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। শিশুদের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি দ্রুত ছড়ায়। কারণ তারা একই খেলনা বা জিনিস বারবার ব্যবহার করে। ঠাণ্ডা এবং শুষ্ক আবহাওয়ায় ভাইরাসটি আরো বেশি সক্রিয় থাকে।

লক্ষণ ও উপসর্গ

আরএসভি সংক্রমণের লক্ষণ বয়সভেদে এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

  • দীর্ঘস্থায়ী সর্দি ও নাক বন্ধ
  • হাঁচি-কাশি
  • জ্বর
  • গলাব্যথা
  • ক্ষুধামান্দ্য
  • শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি

চিকিৎসা ও প্রতিকার

আরএসভির জন্য বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। সাধারণত এক-দুই সপ্তাহের মধ্যে আপনাআপনিই সেরে যায়। তবে সংক্রমণের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি গুরুতর জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। রেসপিরেটরি সিনসিশিয়াল ভাইরাসে আক্রান্ত হলে করণীয়—

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
  • বেশি বেশি পানি পান করুন এবং তরল খাবার খান।
  • নাক বন্ধ থাকলে ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।
  • জ্বর বা ব্যথা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খেতে পারেন।
  • শ্বাসকষ্ট তীব্র হলে অক্সিজেন গ্রহণের ব্যবস্থা করুন।

প্রতিরোধে করণীয়

  • আরএসভি প্রতিরোধে মেনে চলুন এ নিয়মগুলো—
  • সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
  • বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • কাশি-হাঁচির সময় মুখ ঢেকে রাখুন।
  • নিয়মিত সাবানপানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
  • শিশুদের খেলনা ও ব্যবহৃত জিনিস নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
  • ঋতু পরিবর্তনের সময় অযথা ভিড় এড়িয়ে চলুন এবং বাইরে গেলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন।
  • আরএসভির টিকা নিশ্চিত করুন।

লেখক: মেডিসিন ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

ল্যাবএইড আইকনিক, কলাবাগান