ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণগুলো বেশ নিরীহ প্রকৃতির। ফলে অধিকাংশ রোগীই অবহেলা করেন। ৪০ শতাংশের বেশি রোগীর ফুসফুস ক্যান্সার ধরা পড়ে শেষ পর্যায়ে গিয়ে। অথচ এটি সবচেয়ে ভয়াবহ ক্যান্সারগুলোর একটি। তাই এতটুকু অবহেলা নয়, নিম্নোক্ত লক্ষণগুলোর উপস্থিতি পেলেই সতর্ক হয়ে উঠুন।

ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ

কাশি: ফুসফুস ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ কাশি। শুকনা কাশি, ঘনঘন কাশি কিংবা রাতের দিকে কাশির গমক বেড়ে যাওয়া। কাশি এক থেকে দুই সপ্তাহ স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।

কাশির সঙ্গে কফ/রক্ত: কাশি, থু-থু কিংবা লালার সঙ্গে লালাভ বা মরিচা রঙের কফ নির্গত হলে বুঝতে হবে কাশির সঙ্গে রক্ত বের হচ্ছে। ধূমপায়ীদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।

জ্বর: ফুসফুসের প্রদাহের ফলে ঘনঘন জ্বর হয়। এক্ষেত্রে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকও কাজ করে না।

কণ্ঠস্বর পরিবর্তন: দীর্ঘকালীন কাশির ফলে কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে।

শ্বাসকষ্ট: ফুসফুস ক্যান্সারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য লক্ষণ এটি। সামান্য একটু হাঁটলে, অল্প পরিশ্রম করলে, কোনো কিছু ওঠানামা করালে কিংবা কয়েকটি সিঁড়ি ভাঙতে গেলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

অবসাদ: দৈনন্দিন ব্যস্ততা কিংবা কম পুষ্টিকর খাদ্যের ফলে ক্লান্তি বা অবসাদ আসতেই পারে। কিন্তু এ অবসাদ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে ওঠে তাহলে সচেতন হতে হবে।

আঙুল ফুলে যাওয়া: অনেক সময় আঙুল ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়, বিশেষ করে আঙুলের গোঁড়ার দিক এবং নখের চারপাশ। এক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া ভালো।

ওজন হ্রাস: ডায়েট, ব্যায়াম কিংবা অন্যান্য কারণ ছাড়া হঠাৎ করেই উল্লেখযোগ্যভাবে ওজন কমে যাওয়া ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ। ক্যান্সারের কোষ খাবারের শক্তি শুষে নিয়ে দেহের ওজন কমিয়ে দেয়।

চোখের পাতার দুর্বলতা: চোখের পাতার দুর্বলতা ফুসফুস ক্যান্সারের একটি প্রাথমিক লক্ষণ। ফুসফুসের ওপরের অংশের স্নায়ুগুলো চোখের পাতার স্নায়ুগুলোর সঙ্গে যুক্ত থাকে বলে ক্যান্সার যখন ফুসফুসের একেবারে ওপরের অংশে ছড়িয়ে পড়ে তখন চোখের পাতা দুর্বল হয়ে আসে।

গাইনেকোমেস্টিয়া: অনেক সময় পুরুষের স্তন নারীদের স্তনের মতো বড় আকার ধারণ করে। এটি ঘটে থাকে পুরুষদের স্তনে অতিরিক্ত টিস্যু জন্মানোর ফলে। এটিকে বলে গাইনেকোমেস্টিয়া। স্তনের টিস্যুর কাছাকাছি জায়গায় থাকে ফুসফুস, ফলে এটি স্তনের কোষগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিস: নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিস আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ফুসফুস ক্যান্সারের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

বুকব্যথা: শ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁচি-কাশি দেয়া প্রভৃতি কারণে বুকে একটু চাপ পড়লেই তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এ ব্যথা স্বল্প কিংবা দীর্ঘকালীন হতে পারে। টিউমার যদি ফুসফুস ঝিল্লির আশপাশে হয়, তাহলে মাঝে মাঝে বুকে হালকা ব্যথা হয়। কিন্তু টিউমারটি যদি ফুসফুস ঝিল্লি ভেদ করে, সেক্ষেত্রে অনবরত বুকে তীব্র ব্যথা বোধ হয়।

মাথাব্যথা: সব ধরনের মাথাব্যথাই ফুসফুস ক্যান্সারের লক্ষণ তা নয়। তবে ঘনঘন তীব্র মাথাব্যথা অবহেলা করবেন না।

শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা: ফুসফুসের প্রদাহের ফলে শরীরের অন্যান্য অংশ যেমন ঘাড়, বাহু, পিঠে ব্যথা হতে পারে।

লেখক: সিনিয়র কনসালট্যান্ট, অনকোলজি অ্যান্ড রেডিওথেরাপি

ল্যাবএইড ক্যান্সারে হসপিটাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার