আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে যখন কোনো ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাসজনিত সংক্রমণ দেখা দেয়, দেহকোষ আঘাতপ্রাপ্ত হয় বা টক্সিন বৃদ্ধি পায়, তখন শরীরে এক ধরনের প্রাকৃতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—যাকে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ বলা হয়। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক শারীরিক ক্রিয়া। কিন্তু এই প্রদাহ যদি দীর্ঘস্থায়ী বা অতিরিক্ত হয়ে যায়, তখন তা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘস্থায়ী ইনফ্লামেশন থেকে হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, ক্যানসারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিখ্যাত মেডিকেল জার্নাল ন্যাচার মেডিসিন-এ প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের স্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ডেভিড ফোরম্যান বৈজ্ঞানিকভাবে দেখিয়েছেন যে ক্রনিক ইনফ্লেমেশন তথা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ মানুষের জীবনজুড়ে বিভিন্ন রোগ তৈরি করে থাকে।
তাই শরীরকে ইনফ্লেমেশন থেকে রক্ষা করতে ম্যাজিকের মতো কাজ করে কিছু প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান। এগুলোকে বলা হয় অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি উপাদান। এ খাবারগুলো শরীরের প্রদাহ কমিয়ে কোষকে সুরক্ষা দেয় এবং সামগ্রিকভাবে সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
নারিকেল তেল : যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সুসান হেওয়েলিংস বৈজ্ঞানিকভাবে দেখিয়েছেন—নারিকেল তেল ইনফ্লেমেশন-রোধী, অ্যান্টিভাইরাল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যসমৃদ্ধ। দৈনন্দিন রান্নায় নারিকেল তেলের ব্যবহার অত্যন্ত উপকারী। এছাড়াও সরাসরিও খাওয়া যেতে পারে, যা শরীরে ইনফ্লেমেশন কমানোর পাশাপাশি শরীরে শক্তিও যোগায়।
হলুদের চা : হলুদ অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণাবলিসমৃদ্ধ একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে প্রদাহ কমাতে সহায়ক। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের একজন গবেষক তার গবেষণায় উল্লেখ করেন—হলুদের সঙ্গে গোলমরিচ একসাথে গ্রহণ করলে হলুদের শোষণক্ষমতা ২০০০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। কুসুম গরম পানি বা দুধের সঙ্গে হলুদ ও গোলমরিচ মিশিয়ে খাওয়ার উপকারিতা অনেক।
মধু ও লেবুর চা : আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, লেবু ভিটামিন-সি-সমৃদ্ধ এবং মধুতে আছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান। মধু ও লেবু একসঙ্গে মিশিয়ে খেলে বিপাক প্রক্রিয়া উন্নত হয়, হজমক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে পেটের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় থাকে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়। উষ্ণ পানিতে লেবু ও খাঁটি মধু মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। তবে মধু উচ্চ গ্লাইসেমিকযুক্ত হওয়ায় ব্লাড সুগার দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের মধু খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিদিনের খাবারে এ ধরনের প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে পাবেন ঔষধমুক্ত সুস্থ জীবন। এই লক্ষ্যেই কাজ করছে আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার। প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞ ও দক্ষ পুষ্টিবিদরা প্রাকৃতিক খাবারের মাধ্যমে অসংখ্য রোগীকে সুস্থ করে তুলছেন।
প্রফেসর ড. মজিবুল হক, কনসালটেন্ট, সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন, যুক্তরাষ্ট্র










