অভিশংসিত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল শনিবার (৮ মার্চ) আটকাবস্থা থেকে মুক্তি পেয়েছেন। আদালত তার গ্রেফতারকে প্রক্রিয়াগত কারণে বাতিল ঘোষণা করলেও তার সামরিক আইন জারির বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকবে। খবর এএফপি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভোররাতে এক অভিযানে ইউনকে আটক করা হয়। গত ৩ ডিসেম্বর তিনি বেসামরিক শাসন বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়।

মুক্তি পাওয়ার পর ইউন আটককেন্দ্র থেকে হাসিমুখে বেরিয়ে এসে সমর্থকদের সামনে মাথা ঝুঁকিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আইনজীবীদের মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমি এ দেশের জনগণের প্রতি মাথা নত করে কৃতজ্ঞতা জানাই।

একদিন আগে আদালত তার গ্রেফতারি পরোয়ানা বাতিল করে। প্রযুক্তিগত ও আইনি কারণে তার গ্রেফতারি পরোয়ানা অবৈধ ছিল বলে জানান বিচারকরা। তবে কৌঁসুলিরা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য’ বলে আখ্যা দেন।

আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অধিকার থাকলেও প্রসিকিউশন বিভাগ তা না করার সিদ্ধান্ত নেয়। কৌঁসুলিরা জানান, সাংবিধানিক আদালতের রায় এবং অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রসিকিউটর জেনারেল আপিল করার পরিবর্তে ট্রায়াল আদালতে যুক্তি তুলে ধরার নির্দেশ দিয়েছেন।

ইউন আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত হলে দক্ষিণ কোরিয়ায় ৬০ দিনের মধ্যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হারালেও তার বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলাও অব্যাহত থাকবে।

ইউনের আইনজীবীরা গত মাসে তার গ্রেফতারকে অবৈধ বলে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। তাদের যুক্তি ছিল, প্রসিকিউশন অনেক দেরিতে অভিযোগ দায়ের করেছে। মুক্তি পাওয়ার পর তার আইনি দল এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্টের মুক্তি আইনের শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা নির্দেশ করে।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউন মুক্তি পাওয়ার পর গাড়িবহর নিয়ে প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবনের উদ্দেশে রওনা হন। সেখানে পৌঁছে গাড়ি থেকে নেমে তিনি শত শত সমর্থকদের শুভেচ্ছা জানান।

তবে বিরোধী দল এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক মুখপাত্র বলেন, ইউন এমন আচরণ করছেন যেন তিনি যুদ্ধে জয়ী কোনো সেনাপতি। এটি অত্যন্ত নির্লজ্জ আচরণ, বিশেষ করে এমন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে, যিনি রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েও তা অস্বীকার করছেন। এখন একমাত্র সমাধান হলো ইউনকে দ্রুত অপসারণ করা, যা আসন্ন সংবিধানিক আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করছে।