দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে আরো ১৮০টি কে-২ যুদ্ধ ট্যাংক কেনার চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছেছে পোল্যান্ড। ২০২২ সালে স্বাক্ষরিত বৃহৎ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় মোট প্রায় এক হাজার ট্যাংক সংগ্রহ করবে দেশটি। এ চুক্তির মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠছে পোল্যান্ডের ক্রমবর্ধমান সামরিক সক্ষমতা ও দক্ষিণ কোরিয়ার একটি শীর্ষস্থানীয় অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে আবির্ভাবের রুপরেখা। খবর সিএনএন।

চুক্তির মধ্যে রয়েছে ৮০টি সহায়ক যান, গোলাবারুদ, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সুবিধা, যার আনুমানিক মূল্য ৬৭০ কোটি ডলার । ট্যাংকগুলো তৈরি করবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা নির্মাতা হিউন্ডাই রোটেম। তবে ১৮০টির মধ্যে ৬০টি পোল্যান্ডেই তৈরি হবে। চুক্তির আওতায় পোল্যান্ডে একটি স্থানীয় উৎপাদন লাইন স্থাপন করা হবে, যার মাধ্যমে কে-২পিএল নামে একটি বিশেষ সংস্করণ তৈরি হবে। প্রথম ধাপে নির্মিত দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি ৩০টি ট্যাংক আগামী বছরের শেষ নাগাদ পোল্যান্ডে পৌঁছাবে।

২০২২ সালের ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় পোল্যান্ড ৯৮০টি কে-২ ট্যাংক, ৬৪৮টি কে-৯ সেলফ-প্রপেলড হাউইটজার ও ৪৮টি এফএ-৫-যুদ্ধবিমান সংগ্রহের পরিকল্পনা করে। এরই মধ্যে প্রথম দফার ১৮০টি ট্যাংকের মধ্যে প্রায় ১৩৫টি পোল্যান্ডে পৌঁছেছে। এছাড়া ১৭৪টি কে-৯ হাউইটজার পাঠিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, আরো ৩৮টি পাঠানো বাকি। দ্বিতীয় ধাপে আরো ১৫২টি হাউইটজার পাঠানো হবে। ৪৮টি এফএ-৫০ যুদ্ধবিমানের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১২টি সরবরাহ করা হয়েছে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ট্যাংকগুলো মূলত সোভিয়েত যুগের পুরনো অস্ত্রের জায়গা নিতে এসেছে। যেগুলো পোল্যান্ড রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়তে ইউক্রেনকে দান করেছে। একটি মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, পোল্যান্ড ইউক্রেনকে ৩০০টির বেশি ট্যাংক ও ৩৫০টির বেশি সাঁজোয়া যান দান করেছে।

রাশিয়ার আগ্রাসনের মুখে পোল্যান্ড প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। ২০২২ সালে জিডিপির ২ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় করা হলেও ২০২৫ সাল নাগাদ তা বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যা হবে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

তবে অস্ত্র সংগ্রহের এই বিশাল পরিকল্পনা নিয়ে কিছু সতর্কবার্তাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক র‍্যান্ড করপোরেশনের মতে, পোল্যান্ডের অনেক চুক্তিই বিদেশী ঋণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভবিষ্যতে এই অর্থায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে। পাশাপাশি আগামী এক দশকে দেশটির সেনাসংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে, যা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।

এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বের দশম বৃহত্তম অস্ত্র রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এ সময়ের মধ্যে দেশটির ৪৬ শতাংশ অস্ত্র পোল্যান্ডে রফতানি হয়েছে। ইউক্রেন ও গাজা সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মজুদ হ্রাস পাওয়ায় মার্কিন মিত্রদের জন্য একটি বিকল্প উৎস হয়ে উঠেছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির অস্ত্রশিল্প যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভবিষ্যতে আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। এরই মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর কিছু জাহাজ রক্ষণাবেক্ষণের কাজ দক্ষিণ কোরিয়ান শিপইয়ার্ডে হস্তান্তর করা হয়েছে।