গাজায় যুদ্ধবিরতি ও নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন ইসরায়েলের কয়েক হাজার নাগরিক। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু সরকার দেশের গণতন্ত্রকে আঘাত করেছে। সেই সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রতি যুদ্ধবিরতি চুক্তি পুনর্বহাল ও অবশিষ্ট জিম্মিদের গাজা থেকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা। খবর এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ান।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলো বলছে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই সময় তাদের হাতে বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল, ‘নেতানিয়াহু সরকার অথবা ইসরাইলের ভবিষ্যতকে বাঁচাতে হবে।’ জেরুজালেম ও তেল আবিব থেকে অন্তত ১২ বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। আয়োজকদের দাবি, বিক্ষোভ কর্মসূচি যেভাবে গতি পাচ্ছে, তাতে আগামী দিনগুলোতে আরো বেশি বিক্ষোভ হতে পারে।

ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার প্রধান রোনেন বারকে বরখাস্তে নেতানিয়াহুর প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে এ বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। তবে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় বিমান হামলা ও কয়েকশ প্রাণহাণি এ বিক্ষোভকে আরো জোরালো করেছে।

যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভের অন্যতম আয়োজন এলিয়াস শারাগা সিএনএন’কে বলেছেন, গাজায় আবার আগ্রাসন শুরু করার প্রধান লক্ষ্য নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় টিকে থাকা। নেতানিয়াহু আসলে দুর্নীতির বিচার থেকে নিজেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।

মঙ্গলবার সকালে ইসরাইলি আদালতের নেতানিয়াহুর দুর্নীতির শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে তার নির্দেশে গাজায় ভয়াবহ গণহত্যা চালানো হয়।

শারাগা আরো বলেন, নিজেকে বিচারের হাত থেকে বাঁচাতে তিনি গাজায় আটক জিম্মিদের জীবনকে বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। অথচ যুদ্ধবিরতি চালিয়ে গেলে তাদের মুক্ত করে আনা সম্ভব হত।

এদিকে গত তিনদিনে গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৫৯০ জন নিহত ও ৯০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ২০০ শিশু রয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলের বিমান হামলা ও স্থল অভিযান পুনরায় শুরু হওয়ার পর শুধু বৃহস্পতিবার গাজাজুড়ে অন্তত ৯১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো অনেকে।

মন্ত্রণালয় থেকে আরো জানানো হয়েছে, গাজায় যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৯ হাজার ৬১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ১২ হাজার ৯৫০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ায় গাজার অনেক বাসিন্দা আবারও প্রাণ বাঁচাতে ঘরবাড়ি ছাড়ছেন। এরই মধ্যে দক্ষিণ গাজার রাফায় স্থল আক্রমণ চালাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সেই সঙ্গে সৈন্যরা বেইত লাহিয়া শহর এবং কেন্দ্রীয় এলাকার কাছে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে।