ব্রিটেনে রাজকীয় সফরগুলোয় অন্যতম আকর্ষণীয় বিষয় হলো রাষ্ট্রীয় ভোজ বা 'স্টেট ব্যাঙ্কোয়েট'। ঝলমলে এ অনুষ্ঠানে থাকে বক্তৃতা, রাজকীয় টোস্ট, ট্রাম্পেটের সুর এবং সুস্বাদু খাবার ও পানীয়। কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরো দৃঢ় করতে এটি এক বিশেষ কৌশল। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষভাবে আপ্যায়ন করার জন্য উইনসর ক্যাসেলে ছিল এ আয়োজন। খবর বিবিসি।

উইনসর ক্যাসেলের সেন্ট জর্জ’স হলে কর্মীরা সামরিক বাহিনীর মতোই সুশৃঙ্খল ছিলেন। প্রতিটি প্লেটের পাশে পাঁচটি করে গ্লাস, আর ১৪৫২টি কাটলারি যেন নিখুঁতভাবে সাজানো ছিল।

ট্রাম্পের সম্মানে আয়োজিত এই ভোজে ১৬০ জন অতিথি অংশ নেন। অতিথিদের জন্য ফরাসি ভাষায় লেখা মেনু পরিবেশন করা হয়েছিল। সেখানে স্টার্টার হিসেবে ছিল হ্যাম্পশায়ার ওয়াটারক্রেস পানা কোট্টা, পারমেজান শর্টব্রেড ও কোয়েল ডিমের সালাদ।

মেইন কোর্স ছিল অর্গানিক নরফোক চিকেন ব্যালোটিন; জুকিনি দিয়ে মোড়ানো চিকেন, যার সঙ্গে থাইম ও স্যাভরি-ইনফিউজড জুস ব্যবহার করা হয়েছিল।

dinner

ডেজার্ট হিসেবে ছিল ভ্যানিলা আইসক্রিম বোম্বে, কেন্টিশ রাস্পবেরি সারবেট ভেতরে, সঙ্গে হালকা পোচড ভিক্টোরিয়া প্লাম

এছাড়াও, অতিথিদের জন্য দারুণ কিছু ওয়াইন পরিবেশন করা হয়েছিল। তালিকায় ছিল—

উইস্টন এস্টেট থেকে তৈরি শ্যাম্পেন ‘উইস্টন এস্টেট, কুভে, ২০১৬’, ফ্রান্সের বার্গান্ডি অঞ্চলের বিখ্যাত ওয়াইন ‘ডোমেন বোন্নো দে মারট্রে, করটন-শার্লেমেন, গ্র্যান্ড ক্রু, ২০১৮’, ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত রেড ওয়াইন ‘রিজ ভাইনইয়ার্ডস, মন্টে বেলো, ২০০০’, বিখ্যাত ফরাসি শ্যাম্পেন ‘পোল রজার, এক্সট্রা কুভে দে রিজার্ভ, ১৯৯৮’।

খাবারের পরের পানীয়গুলোতে ছিল প্রতীকী তাৎপর্য। ১৯৪৫ সালের ভিনটেজ পোর্ট পরিবেশন করা হয়েছিল, কারণ ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। এছাড়াও ১৯১২ সালের কনিয়্যাক পরিবেশন করা হয়, যা প্রেসিডেন্টের স্কটিশ বংশোদ্ভূত মায়ের জন্ম সাল।

এসবের পাশাপাশি একটি বিশেষ ককটেলও ছিল, যার নাম ছিল ‘ট্রান্সআটলান্টিক হুইস্কি সাওয়ার’। এটি জনি ওয়াকার, মার্মালেড, পেকান ফোম এবং টোস্ট করা মার্শম্যালো দিয়ে তৈরি।

উইনসর ক্যাসেলের এই ভোজসভায় কোনো জনপ্রিয় অভিনেতা বা চলচ্চিত্র তারকাদের দেখা যায়নি। তবে প্রযুক্তি এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বে ভরপুর ছিল অতিথিদের তালিকা।

অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক প্রেসিডেন্টের মেয়ে টিফানি ট্রাম্পের পাশে বসেছিলেন।

মিডিয়া মুঘল রুপার্ট মারডক বসেছিলেন স্যার কিয়ার স্টারমারের প্রধান উপদেষ্টা মর্গান ম্যাকসুইনির পাশে।

ভোজের মূল টেবিলে রাজা ও প্রেসিডেন্ট মাঝখানে বসেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতিথি হিসেবে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং প্রিন্সেস অব ওয়েলস ক্যাথরিনের মাঝখানে বসেছিলেন। ট্রাম্পের নেমপ্লেটে তার পদবী বড় হরফে লেখা ছিল।

menu

এছাড়াও কিছু কৌতূহলপূর্ণ আসন বিন্যাস দেখা গেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওয়ারেন স্টিফেনসকে প্রিন্সেস অ্যান এবং চ্যান্সেলর রাচেল রিভসের মাঝে বসানো হয়। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ব্ল্যাকস্টোন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের প্রধান স্টিফেন শোয়ার্জম্যানের পাশে বসেছিলেন। কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনোকের পাশে ছিলেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোম্পানি ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান।

আমেরিকার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ উপস্থিত ছিলেন। যুক্তরাজ্যের রাজনীতিবিদদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি উপস্থিত ছিলেন।

খেলোয়াড়দের মধ্যে গলফার নিক ফাল্ডো এবং অ্যাথলেট ডেম ক্যাথরিন গ্র্যাঞ্জার ছিলেন। প্রযুক্তি খাতের আরেক দিকপাল, এনভিডিয়া-এর প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংও অতিথি হিসেবে ছিলেন।

ভোজের সময় যে গানগুলো বাজানো হয়েছিল, সেসব ট্রাম্পের পছন্দের ছিল বলে জানা যায়। গানগুলোর মধ্যে ছিল ‘নেসসুন দর্মা’ (যার অর্থ, কেউ ঘুমাবে না) এবং ‘ইউ ক্যান্ট অলওয়েজ গেট হোয়াট ইউ ওয়ান্ট’।