থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যকার পুরোনো সীমান্ত বিরোধ আবারো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে শুরু হওয়া গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলায় থাইল্যান্ডে দুইজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। খবর আল জাজিরা।
থাই সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কম্বোডিয়া প্রথমে একটি নজরদারি ড্রোন পাঠায়। পরে ভারী কামান ও দূরপাল্লার রকেট দিয়ে থাই ভূখণ্ডে হামলা চালায়। এর জবাবে থাই সেনারা পাল্টা গোলাবর্ষণ করে। তাদের দাবি, এ সময় থাইল্যান্ডের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান কম্বোডিয়ার ভেতরে একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়।
থাইল্যান্ডের সুরিন প্রদেশের কাবচিয়াং জেলার স্থানীয় প্রশাসক জানিয়েছেন, গোলার আঘাতে দুজন বেসামরিক নাগরিক মারা গেছেন। সংঘর্ষের পর সীমান্তবর্তী ৮৬টি গ্রাম থেকে প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে নিরাপদ আশ্রয়ে।
থাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, কম্বোডিয়া শুধু সামরিক নয়, বেসামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি হাসপাতালও রয়েছে। কম্বোডিয়ার আগ্রাসন বন্ধ না হলে পালটা জবাবে আরো কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে কম্বোডিয়া দাবি করেছে, সংঘর্ষের সূচনা করেছে থাই বাহিনী। দেশটির যুদ্ধবিমান তাদের সড়কে দুটি বোমা ফেলেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বলেন, থাই বাহিনী আগে গোলাবর্ষণ শুরু করায় ক্যাম্বোডিয়ান সেনারা আত্মরক্ষায় পাল্টা জবাব দিতে বাধ্য হয়। একইসঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংঘাতের পর দুদেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ায় নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতকে ফিরিয়ে নিয়েছে ও কম্বোডিয়ান রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করেছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় কম্বোডিয়াও তাদের সব কূটনীতিককে দেশে ফেরত নিচ্ছে ও থাই কূটনীতিকদের দেশ ছাড়তে বলেছে। ফলে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক এখন প্রায় ছিন্ন হওয়ার পথে।
এর আগেও দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা দেখা দিয়েছিল। চলতি মাসের ১৬ তারিখ মাইন বিস্ফোরণে তিনজন থাই সেনা আহত হন। থাইল্যান্ড এ জন্য কম্বোডিয়াকে দায়ী করলেও কম্বোডিয়ার দাবি, এটি আগের সময়ের স্থাপন করা মাইন থেকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। গত মে মাসেও সীমান্তে গোলাগুলিতে এক ক্যাম্বোডিয়ান সেনা নিহত হয়।
উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যে ৮১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তের বেশ কিছু স্থানে এখনো সীমানা নির্ধারিত হয়নি। এই অনিশ্চয়তা থেকেই দুই দেশের মাঝে প্রায়ই সংঘর্ষ বেধে যায়।










