নাকবা দিবসের ৭৭তম বার্ষিকীতে ফের ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলায় রক্তাক্ত হলো গাজা। গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ গাজার খান ইউনুসসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত ৭৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। খবর আল জাজিরা।

শুধু খান ইউনুসেই অন্তত ৫৭ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নাসের মেডিকেল কমপ্লেক্স। হাসপাতালে দেখা গেছে শিশুদের স্রোত—বেঁচে থাকা অনেকেই আহত।

আল জাজিরাকে দেয়া বক্তব্যে গাজা থেকে উৎখাত হওয়া বাসিন্দা হাসান মোকবেল বলেন, ‘এটা বেসামরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। এখানে কোনো সশস্ত্র তৎপরতা নেই—শুধু শিশু, বৃদ্ধ, সাধারণ মানুষ।‘

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক হাসান সামুর। পরিবারের সঙ্গে তিনি নিজ বাড়িতে বিমান হামলায় প্রাণ হারান। কয়েকদিন আগেই নাসের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আহত সাংবাদিক হাসান আসলিহকে ড্রোন হামলায় হত্যা করা হয়েছিল।

সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটির হিসাব অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৭০ জনের বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। এ ভয়াবহ পরিসংখ্যান দেখায়, গাজা এখন বিশ্বে সংবাদকর্মীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক অঞ্চলে পরিণত হয়েছে।

এই হামলার প্রেক্ষিতে গাজা শহর থেকে নতুন করে হাজারো মানুষ পালিয়ে গেছে। পশ্চিম তীরেও সহিংসতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইসরায়েল।

এমন এক সময়ে এই মানবিক বিপর্যয় ঘটছে, যখন ফিলিস্তিনিরা স্মরণ করছে ১৯৪৮ সালের ‘নাকবা’—যেদিন ৭ লাখ ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিকে উচ্ছেদ করে গড়ে তোলা হয়েছিল ইসরায়েল। ধ্বংস হয়েছিল ৫৩০টি গ্রাম ও শহর।

১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর ও গাজা দখলে রেখে চলছে ইসরায়েলি সামরিক শাসন। গত ১৯ মাসে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার ফিলিস্তিনি। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

মানবাধিকার সংস্থা ও সাংবাদিক সংগঠনগুলো বলছে, এই হামলা এখন গণবিনাশ অভিযানে রূপ নিয়েছে। ফিলিস্তিনিরা প্রশ্ন তুলছে—তাদের মাতৃভূমির আর কোনো অংশ কি অক্ষত থাকবে?