হিমালয় ঘেরা ভারত-চীনবেষ্টিত নেপালে চলমান অস্থিরতা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এমনকি ২০০৬ সালের গণআন্দোলনের চেয়েও সহিংস হয়ে উঠেছে চলমান জেন জেড বিক্ষোভ।

সে সময় গণ আন্দোলনে নিহত হয়েছিল ১৮ জন। যা রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পতনের পথ প্রশস্ত করেছিল। সে ঘটনার মাত্র দুই বছর পর ২০০৮ সালে রাজতন্ত্র বিলোপ করে নেপালকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করে দেশটির পার্লামেন্ট।

কিন্তু প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় দশক পরও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসেনি। বরং ২০০৮ সালের পর থেকে নেপাল ইতোমধ্যেই ১৩টি সরকার দেখেছে। এই ঘনঘন সরকার পরিবর্তন জনগণের আস্থাকে নষ্ট করেছে। আর বাড়িয়েছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা।

অনেক নেপালি মনে করেন প্রজাতন্ত্র তাদের প্রত্যাশিত স্থিতিশীলতা আনতে ব্যর্থ হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ মাসেই সাবেক রাজার সমর্থকরা রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে কাঠমান্ডুতে সমাবেশ হয়েছে। সে সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত দুজন নিহত হয়েছে।

এসব আন্দোলনকে ছাপিয়ে গেছে এবারের জেনারেশন জেড বিক্ষোভ। সোমবারের আন্দোলন ঠেকাতে কঠোর দমন-পীড়ন শুরু করে সরকার। বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট, জল কামান ব্যবহার করা হয়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় ১৯ জন। বেশ কিছু এলাকায় জারি করা হয় কারফিউ। এর জেরে মঙ্গলবার আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারণ করে। তরুণদের এ আন্দোলনে যোগ দেয় সাধারণ মানুষও।

আন্দোলনের জেরে এরইমধ্যে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার আরো তিনি মন্ত্রী। তবে আন্দোলনকারীদের সহিংসতা থামেনি। বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামো, প্রেসিডেন্টের বাসভবন, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রীদের বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষোভকারীরা।

এই পরিস্থিতিতে আন্দোলন থামার ইঙ্গিত দেখছেন না বিশ্লেষকরা। অনেক বিক্ষোভকারীর দাবি শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, পুরো সরকারের বিলুপ্তি। এ ধরনের পদক্ষেপ নেপালে আরো অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।

আল জাজিরা অবলম্বনে।