একটি টুপি পরা খুলি ও দুটি হাড় আড়াআড়ি বসানো, জনপ্রিয় জাপানি অ্যানিমে ‘ওয়ান পিস’-এর জলদস্যু দলের পতাকা। যা জলি রজার নামে পরিচিত। বর্তমানে এটিই হয়ে উঠেছে ইন্দোনেশিয়ার রাজনৈতিক অসন্তোষের প্রতীক। দেশের স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে এই প্রতীক ছড়িয়ে পড়েছে সারা দেশে। বাড়ির বারান্দায়, গাড়ির পেছনে, দেয়ালে এই পতাকা এঁকে নীরব প্রতিবাদ করছে ইন্দোনেশিয়ার নাগরিকরা।

‘ওয়ান পিস’ অ্যানিমেতে একদল বিদ্রোহী জলদস্যু একটি কঠোর শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে। ইন্দোনেশিয়ায় বহু মানুষ এখন সেই পতাকাকেই ব্যবহার করছে প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তোর সরকারের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণবাদের বিরোধিতার প্রতীক হিসেবে।

জুলাই মাসে প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো জনগণকে আহ্বান জানান, ১৭ আগস্ট স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রত্যেকে যেন বাড়িতে জাতীয় পতাকা ওড়ান। তবে বহু নাগরিক সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে বেছে নিয়েছেন ‘ওয়ান পিস’-এর নেতা মানকি ডি. লাফির জলদস্যু পতাকাকে। তাদের ভাষায়, এটা কোনো দেশবিরোধী কাজ নয়, বরং ‘আমরা দেশকে ভালোবাসি, কিন্তু নীতির সঙ্গে একমত নই’ এই বক্তব্যের প্রতীক।

পাপুয়ার জয়াপুরা শহরের বাসিন্দা আলি মৌলানা বলেন, ‘এই দেশ যদিও স্বাধীন, আমাদের অনেকেই এখনো বাস্তব জীবনে সেই স্বাধীনতার স্বাদ পাননি।’

সরকারের পক্ষ থেকে এই আন্দোলনের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। উপ-সংসদ স্পিকার সুফমি দাসকো আহমদ একে জাতিকে বিভক্ত করার সচেতন প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দিয়েছেন। অপর এক সাংসদ বলেন, এই পতাকা উড়ানো রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হতে পারে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে বলা হয়েছে, জাতীয় পতাকাকে হেয় না করে সৃষ্টিশীল মতপ্রকাশে এই পতাকা ব্যবহারে আপত্তি নেই। তবে লাল-সাদা জাতীয় পতাকা অবশ্যই বেশি গুরুত্বে রাখতে হবে।

জাকার্তা পুলিশের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, জাতীয়তাবাদের চেতনার পরিপন্থী প্রতীক ও পতাকা নজরে রাখছে তারা।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গণতন্ত্র ইন্দোনেশিয়া সাম্প্রতিক সময়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে। প্রাবোয়ো ক্ষমতায় আসার পর বাজেট কাটছাঁট, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বাড়ানো ও রাজনৈতিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নিয়ে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়তে থাকে। ফেব্রুয়ারিতে হাজার হাজার মানুষ এসবের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। বহু পর্যবেক্ষক বলছেন, সরকারের প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করছে এই প্রতীকী প্রতিবাদের শক্তি কতটা।

ফারহান রিজকুল্লাহ নামের এক বিশ্লেষক জানিয়েছেন, ‘কার্টুনের পতাকাকে যদি সরকার জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি ভাবে, তবে তারা আসলে স্বীকার করছে লাফির স্বাধীনতার স্বপ্নই তাদের সবচেয়ে বড় ভয়।’