সৌদি আরবে হামলার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সামরিক সক্ষমতা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। গতকাল সোমবার (৫ অক্টোবর) তিন দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকের পর এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর এপি

সোমবারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিন দেশেরই জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা, কূটনৈতিক ও সামরিক কর্মকর্তারা অংশ নেন। তুরস্কের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের এবং সেনাপ্রধান (চিফ অফ জেনারেল স্টাফ) জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারোগলু।

পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ। সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান এবং সেনাপ্রধান (চিফ অফ জেনারেল স্টাফ) জেনারেল ফায়াদ বিন হামেদ আল-রুওয়াইলি। পাকিস্তানের অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নুমান মাহমুদ—যিনি মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মহাসচিব হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন—তিনিও এই বৈঠকে অংশ নেন।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদিত ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জাতীয় আইন অনুযায়ী সৌদি আরবে সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা মোতায়েন করা হবে। এর লক্ষ্য হলো সামরিক প্রস্তুতি ও সমন্বয় জোরদার করা এবং বিভিন্ন হুমকি মোকাবিলায় জোটের সক্ষমতা বাড়ানো।

বিবৃতিতে তিন দেশ জোর দিয়ে বলেছে, তাদের প্রত্যেকের নিরাপত্তা সম্মিলিত নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। মক্কা চুক্তির আওতায় যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হলে তিন দেশের প্রতিরোধ সক্ষমতা এবং নিজেদের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার সামর্থ্য আরো শক্তিশালী হবে।

তিন দেশের জোট জানিয়েছে, পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় আরও জোরদার করা হবে। সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় জোটের সম্মিলিত সক্ষমতা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।