বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, অবশেষে মুখোমুখি বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এশিয়া সফরের শেষ দিনে এই শীর্ষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে বাণিজ্য ইস্যুতে চরম টানাপোড়েনের পর এই শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল করার একটি সুযোগ এনে দিয়েছে। খবর এপি।
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউজে ফিরে আসার পর থেকেই চীনা পণ্যের ওপর আক্রমণাত্মকভাবে শুল্ক ব্যবহার করেছেন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে চীনও বিরল মৃত্তিকা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে জবাব দিয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে অস্থিরতা। এবং পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে উভয় পক্ষই বুঝতে পারছে, তাদের নিজেদের অর্থনৈতিক ভাগ্যকে বিপন্ন করে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা উচিত হবে না।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং। ছবি- রয়টার্স
এই পারস্পরিক স্বীকৃতিই আজকের বৈঠককে নতুন করে জরুরি করে তুলেছে। এশিয়া সফরের সময় দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, তিনি চীনের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক কমানোর কথা বিবেচনা করছেন। ট্রাম্প তখন বলেন, ‘আমি আশা করছি এটি (শুল্ক) কমাব। কারণ আমি বিশ্বাস করি যে, তারা আমাদের ফেন্টানিলের বিষয়ে সাহায্য করতে যাচ্ছে।‘ তিনি আরো যোগ করেন, ‘চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খুবই ভালো।‘ এই মন্তব্যে দুই নেতার মধ্যে একটি ইতিবাচক সমঝোতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই আলোচনায় দুই প্রেসিডেন্টই তাদের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই, তার ডি ফ্যাক্টো চিফ অব স্টাফ এবং পলিটব্যুরো স্থায়ী কমিটির পঞ্চম-র্যাঙ্কের নেতা কাই কি, চীনের অর্থনৈতিক রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা সংস্থার চেয়ারম্যান ঝেং শানজিয়ে এবং বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আছেন সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিও, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট, চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ এবং হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ সুসান উইলিস।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈঠকটি দুই পরাশক্তির মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে সম্পূর্ণভাবে শেষ না করলেও উভয় পক্ষই তাদের অর্থনৈতিক সম্পর্ক পরিচালনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।















