ইরানে শুক্রবারের নজিরবিহীন হামলার আগে ইসরায়েলকে গোপনে কয়েকশ হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আজ শনিবার (১৪ জুন) মিডল ইস্ট আইয়ের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি বড় পরিসরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করেছে ইসরায়েল। এর অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার গোপনে ইসরায়েলে প্রায় ৩০০টি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের এ অস্ত্র সরবরাহই জানান দেয়, ইরানে হামলা সম্পর্কে তারা আগ থেকেই অবগত ছিল। হামলার পরপরই ফক্স নিউজকে দেয়া সাক্ষাতকারেও একই কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোলান্ড ট্রাম্প। তবে অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে কিছুই জানায়নি তারা। বরং ট্রাম্প প্রশাসন বলছিল, তারা ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী এবং ইসরায়েলের এ হামলায় তারা জড়িত নয়।

ইরানে হামলার আগে ইসরায়েলকে এত পরিমাণ অস্ত্র ও হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের খবর এত দিন প্রকাশিত হয়নি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এসব ক্ষেপণাস্ত্র যে শুধু ইরানে বোম্বিংয়ের উদ্দেশ্যেই দেয়া হয়েছে তা নয়। বরং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতেই অত্যাধুনিক এ ক্ষেপণাস্ত্র দেয়া হয়েছে।

এর প্রতিবিম্ব ফুটে উঠেছে ইসরায়েলি হামলায়। ইরানে হামলায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ১০০টির বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেছে। এসব বিমান নির্ভুল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিশানা করে এবং কমান্ড সেন্টারগুলো ধ্বংস করে।

এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, হেলফায়ার ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময় ও ক্ষেত্র আছে। এগুলো ইসরায়েলের জন্য বেশ কার্যকর ছিল।

চলতি মাসের শুরুতে মিডল ইস্ট আই তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছিল, গত এপ্রিল ও মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ওপর ইসরায়েলের একতরফা হামলার পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়। এ পরিকল্পনায় ছিল নিশানা ব্যবস্থাগুলোর বিশ্লেষণ, সাইবার হামলার ছক কষা ও নির্ভুল আঘাতের কৌশল। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের রূপরেখা ট্রাম্প প্রশাসনকে মুগ্ধ করে।

তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্পের আচরণ বিশ্লেষক, এমনকি সম্ভবত ইরানিদের মধ্যেও এমন ধারণার জন্ম দিয়েছিল, তিনি নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য হামলার আহ্বানে বাধা তৈরি করবেন।

মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাক্সিওস গতকাল দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে জানায়, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনায় বাধা দেওয়ার শুধু ‘ভান’ করেছে। কার্যত তারা কোনো বাধা দেয়নি।

ট্রাম্প পরে বলেন, তিনি হামলার আগে ইরানকে একটি নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার জন্য ৬০ দিনের সময় দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি গণমাধ্যম গত মার্চে এই ৬০ দিনের সময়সীমার খবর প্রকাশ করেছিল, যা গতকাল শেষ হয়েছে।